
ইরান যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করতে যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে, তার প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন মধ্যপ্রাচ্যের দুই বড় তেল উৎপাদনকারী দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন, শোধনাগার, গ্যাস স্থাপনা ও তেলবাহী ট্যাংকার পুনর্গঠনে কয়েক হাজার কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে।
সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন নাসের এবং কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (কেপিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ নাওয়াফ আল-সাবাহ সোমবার এনার্জি ইন্টেলিজেন্স ফোরামে এসব কথা বলেন।
সংঘাতের কারণে জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি কয়েক ডজন তেলবাহী ট্যাংকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনা মেরামত ও পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সরবরাহব্যবস্থাকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে নতুন বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলে জানান তাঁরা।
জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন এড়াতে রপ্তানির বিকল্প পথ তৈরি এবং বিদেশে তেল ও জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তাঁরা।
শেখ নাওয়াফ বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো কুয়েতে উৎপাদিত ডিজেল ও জেট ফুয়েল আমদানি করতে চাইলে জ্বালানি সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোতেও তাদের বিনিয়োগ করতে হবে। শুধু উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ালেই হবে না, ভোক্তাদের কাছাকাছি পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
আমিন নাসের বলেন, ‘কোনো দেশেরই একা এই সংকট মোকাবেলা করা উচিত নয়। তেল ও গ্যাসের অবকাঠামো এমন কোনো খরচ নয়, যা কমিয়ে আনা বা এড়িয়ে যাওয়া যায়। উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই এটি একটি যৌথ প্রয়োজন।’
শেখ নাওয়াফ জানান, সংঘাতের আগে কুয়েত ইউরোপে পরিশোধিত তেলজাত পণ্যের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী ছিল। কিন্তু সংঘাতের পর ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ বেড়েছে এবং ডিজেলের ঘাটতিও তীব্র হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে ভোক্তাদের কাছাকাছি পরিশোধিত জ্বালানি মজুতের অবকাঠামো তৈরিতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করছে কুয়েত। শেখ নাওয়াফ বলেন, ইউরোপে পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহ করতে কুয়েত প্রস্তুত। তবে জ্বালানি মজুত, পরিবহন ও সরবরাহের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে ইউরোপীয় অংশীদারদেরও বিনিয়োগ করতে হবে।
অন্যদিকে আমিন নাসের বলেন, যুদ্ধ বা সংঘাত শেষ হয়ে গেলেও কমে যাওয়া জ্বালানি মজুত পুনরায় পূরণ করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তাঁর হিসাবে, মজুত পুনর্গঠনের জন্য দুই বছর পর্যন্ত প্রতিদিন অতিরিক্ত প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলের চাহিদা তৈরি হতে পারে।
তাঁর মতে, বর্তমান সংকট ভবিষ্যতের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও নমনীয় করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করেছে। এ জন্য আগেভাগেই বিনিয়োগ এবং বিকল্প সরবরাহপথ তৈরি করা জরুরি।
মঙ্গলবার এনার্জি ইন্টেলিজেন্স ফোরামে বিশ্বের শীর্ষ তেল কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারাও জ্বালানি মজুত নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান। বিশ্বের অন্যতম বড় পণ্য বাণিজ্যকারী প্রতিষ্ঠান ভিটোল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল হার্ডি বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর হাতে ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানি মজুত প্রায় নেই।
শেভরন করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইক উইর্থ বলেন, কৌশলগত জ্বালানি মজুত থেকে সম্প্রতি তেল বাজারে ছাড়ার কারণে স্বল্পমেয়াদে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে জ্বালানি বাজার এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তেল সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে রপ্তানি ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন আমিন নাসের। তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের প্রচলিত রপ্তান



