অপরাধ

নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পে হামলার ‘অন্যতম পরিকল্পনাকারী’ বিকাশ গ্রেপ্তার

রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রপার্টি আবাসন প্রকল্পে হামলার ঘটনায় বিকাশ চন্দ্র সরকার নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার গভীর রাতে মাগুরা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবির এক কর্মকর্তা আজ সোমবার সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের দাবি, বিকাশ চন্দ্র ওই হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, হামলার আগে নিউ গিনি প্রপার্টির চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন ভূঁইয়া, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ জমির মালিকদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছিলেন বিকাশ। সেই উদ্যোগ সফল না হওয়ায় মামলার এক নম্বর আসামি শাহরিয়া মাহমুদের জন্য হামলাকারী হিসেবে সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এদিকে হামলার মামলায় আগে গ্রেপ্তার হওয়া ছয় আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কারাগার থেকে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। রোববার আদালত তাঁদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে নেওয়া ছয়জন হলেন শাহরিয়া মাহমুদ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের নেতা শাহ আলম অনিক, কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আব্দুর গফুরের জামাতা মিজানুর রহমান, ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দা মো. মামুন, মো. মুন্না এবং অটোরিকশাচালক আসলাম।

অন্যদিকে মামলার চার নম্বর আসামি মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর তিন দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ায় রোববার তাঁকে আদালতে হাজির করে ডিবি। পরে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

ডিবির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন খান সমকালকে বলেন, ছয় আসামিকে ডিবি কার্যালয়ে এনে হামলার বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১১টার দিকে নিউ গিনি আবাসন প্রকল্প এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা সেখানে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। আতঙ্ক তৈরির জন্য তারা এলোপাতাড়ি গুলিও ছোড়ে।

তদন্তে পুলিশ বলছে, হামলার সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক মাদ্রাসাশিক্ষক শাহরিয়া মাহমুদ। হামলার প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা আগে ইসিবি চত্বরের একটি রেস্তোরাঁয় শাহরিয়া মাহমুদ এবং মামলার দুই নম্বর আসামি, ক্যান্টনমেন্ট থানা জামায়াতে ইসলামীর রুকন আবুল কাশেমসহ ১৪ জন বৈঠক করেন।

ওই বৈঠকের ছবি তদন্তসংশ্লিষ্টদের হাতে এসেছে। ছবিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে বিকাশ কুমার নামে একজন ঠিকাদারকেও শনাক্ত করা হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তদন্ত সূত্রের ভাষ্য, বৈঠকের ছবিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রথমে শাহরিয়া মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিকাশ কুমারকে রোববার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে আবাসন প্রকল্পে ঢুকেছিল। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তত ৫০টি গুলি ছোড়া হয়। এতে নির্মাণশ্রমিক, নিরাপত্তাকর্মী ও আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হামলায় অনেক তরুণকে অংশ নিতে দেখা গেছে বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে এবং ঘটনার পর গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন বস্তির বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালক বলে জানা গেছে। তাঁদের ভাড়া করে হামলায় আনা হয়েছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button