
তুরস্কের অন্যতম বৃহৎ শহর ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা সিফসি এ বন্যাকে ১৯৪২ সালের পর, অর্থাৎ গত ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। বন্যায় এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া শহরটির সারিয়ার জেলায় নিখোঁজ রয়েছেন আরও তিনজন।
ইস্তাম্বুল তুরস্কের জনসংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় শহর। শহরটিতে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের বসবাস। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত গত ৪৮ ঘণ্টায় শহরটিতে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে। অতিবৃষ্টির ফলে শহরটির বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দেয়।
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা সিফসি বলেন, জনগণকে সেবা দিতে তাঁরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তবে একই সঙ্গে ১৯৪২ সালের পর সবচেয়ে বড় বন্যার মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাঁদের।
শুক্রবার সকালে ইস্তাম্বুলের সারিয়ার জেলার একটি সেতুর নিচ থেকে ৬৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই জেলায় আরও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। এর আগে বন্যায় আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে একজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। সব মিলিয়ে বন্যায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে।
বন্যার পানিতে শহরটির বিভিন্ন বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ডুবে গেছে বিভিন্ন সড়ক ও গাড়ি রাখার স্থান। পানির প্রবল স্রোতে বেশ কিছু যানবাহন ভেসে গিয়ে উঁচু পাহাড়ি এলাকায় জমা হয়েছে। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি হয়েছে।



