
ভাষা শিক্ষা ও নির্দিষ্ট কাজের দক্ষতা অর্জনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত ও বৈধ পথে কর্মী নিতে আগামী নভেম্বরে ঢাকায় বিশেষ আয়োজন করতে যাচ্ছে ইতালি দূতাবাস। মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ কথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্টোনিও আলেসান্দ্রো। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে ইতালির রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ সরকারের তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ এবং দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য সামনে রেখে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগের উদ্দেশ্যে আগামী মাসেই বিশেষ এ আয়োজন করবে ইতালি সরকার।
প্রস্তাবিত কর্মসূচির আওতায় আগ্রহী ব্যক্তিদের ইতালীয় ভাষা, দেশটির নাগরিক সংস্কৃতি ও সামাজিক রীতিনীতি সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হবে। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক ও কারিগরি দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের ইতালিতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত।
ইতালির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানো এবং তরুণদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অন্যতম অগ্রাধিকার।
মাহদী আমিন আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
সাক্ষাৎকালে বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের দায়িত্বশীল ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার প্রশংসা করেন ইতালির রাষ্ট্রদূত। দুই দেশের পারস্পরিক অংশীদারত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন সমস্যা, চ্যালেঞ্জ কিংবা নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ ও ইতালি একসঙ্গে কাজ করবে।
বৈঠকে দুই দেশের মানুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি ইতালিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং সেখানে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন বলে উল্লেখ করা হয়। তাঁদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া অনিয়মিত পথে বিদেশযাত্রা নিরুৎসাহিত করে কীভাবে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইতালির ভিসা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো এবং আবেদনপ্রক্রিয়া আরও সহজ করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে ইতালির প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় দেশটির দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ফেদেরিকো জাম্পারেলি।



