অন্য খবর

অতিরিক্ত চিন্তা কমিয়ে সুখী থাকতে যে ১০ অভ্যাস গড়বেন

জীবনে সবকিছু নিজের ইচ্ছামতো পেলেই যে সুখী থাকা যাবে, এমন নয়। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট কিছু অভ্যাস এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও মানসিক শান্তি বাড়াতে পারে।

জীবনের সব সমস্যা এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। তবে কোন বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে আর কোন বিষয় ছেড়ে দিতে হবে, সেটি বুঝতে পারলে অনেকটাই সহজ হয়ে আসে জীবন। পরিস্থিতি সবসময় নিজের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও, সেই পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা অনেকাংশেই নিজের হাতে।

অতিরিক্ত চিন্তা কমানো, যা আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকা এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয় থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার মতো কিছু অভ্যাস প্রতিদিনের জীবনকে আরও শান্ত ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এমন ১০টি অভ্যাসের কথা বলা হয়েছে।

১. সবকিছু নিয়ে অতিরিক্ত ভাববেন না

একই বিষয় নিয়ে বারবার চিন্তা করলেই যে সমাধান পাওয়া যাবে, তা নয়। বরং অতিরিক্ত ভাবনা অনেক সময় দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দেয়।

কোনো বিষয় বারবার মাথায় ঘুরতে থাকলে নিজেকে কিছুটা বিরতি দিন। যে বিষয় আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সেটি নিয়ে অতিরিক্ত বিশ্লেষণ না করে নিজের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন।

২. জীবনকে যতটা সম্ভব সহজ রাখুন

প্রতিটি বিষয়কে জটিল করে দেখার প্রয়োজন নেই। জীবনে কোন বিষয়গুলো সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিন। নিজের সময় ও মানসিক শান্তির মূল্য দিন।

অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক, ঝামেলা কিংবা এমন পরিস্থিতি, যা শুধু মানসিক চাপ বাড়ায়, সেগুলো থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন।

৩. যা আছে, তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকুন

জীবনে কী নেই, সেদিকে সবসময় নজর দিলে অসন্তুষ্টি বাড়তে পারে। তার বদলে নিজের জীবনে থাকা ভালো বিষয়গুলো মনে করার অভ্যাস করুন।

প্রিয় মানুষ, ভালো কোনো অভিজ্ঞতা কিংবা প্রতিদিনের ছোট কোনো স্বস্তির মুহূর্তও হতে পারে কৃতজ্ঞ হওয়ার কারণ। এসব বিষয় উপলব্ধি করার অভ্যাস মনকে ইতিবাচক রাখতে সাহায্য করতে পারে।

৪. ক্ষমা করে সামনে এগিয়ে যান

পুরোনো রাগ, কষ্ট বা আঘাত ধরে রাখলে মানসিকভাবে সেই ঘটনার সঙ্গেই আটকে থাকা হয়। কাউকে ক্ষমা করার অর্থ তার ভুলকে মেনে নেওয়া বা সমর্থন করা নয়।

বরং নিজের ভেতরের মানসিক ভার কিছুটা কমিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি উপায় হতে পারে ক্ষমা করে দেওয়া।

৫. নেতিবাচকতার জবাবে ভালো আচরণ বেছে নিন

কেউ খারাপ আচরণ করলেই একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে, এমন নয়। কঠিন পরিস্থিতিতেও যতটা সম্ভব শান্ত ও সদয় থাকার চেষ্টা করুন।

এতে অন্য ব্যক্তির আচরণ বদলাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে নিজের মানসিক শান্তি ধরে রাখতে এটি সহায়ক হতে পারে।

৬. হাসি ও আনন্দের মুহূর্ত খুঁজে নিন

একটু হাসি বা আনন্দের মুহূর্তও দিনের অভিজ্ঞতাকে বদলে দিতে পারে। প্রিয় মানুষের সঙ্গে কথা বলা, মজার কিছু দেখা কিংবা পছন্দের কোনো কাজে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করুন।

জীবনের সব সময় গুরুতর বিষয় নিয়ে ব্যস্ত না থেকে ছোট ছোট আনন্দকেও উপভোগ করার চেষ্টা করুন।

৭. অন্যকে কিছু দেওয়ার অভ্যাস করুন

অন্যকে সাহায্য করতে বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সময় দেওয়া, মন দিয়ে কারও কথা শোনা, প্রয়োজনের সময় সহযোগিতা করা কিংবা সামান্য ভালো আচরণও অর্থপূর্ণ হতে পারে।

অন্যের পাশে দাঁড়ানোর অভ্যাস নিজের মধ্যেও তৃপ্তি ও ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

৮. অন্যের কাছে অতিরিক্ত প্রত্যাশা করবেন না

অতিরিক্ত প্রত্যাশা অনেক সময় হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সবাই আপনার ইচ্ছামতো আচরণ করবে বা আপনার প্রত্যাশা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে, এমনটা নয়।

প্রত্যেক মানুষের পছন্দ, সীমাবদ্ধতা ও অনুভূতি আলাদা। তাই অন্যরা কী করবে, তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে নিজের প্রত্যাশাকে বাস্তবসম্মত রাখুন।

৯. নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলোর দিকে মন দিন

আগামীকাল কী ঘটবে, অন্য কেউ কী সিদ্ধান্ত নেবে কিংবা কোনো পরিস্থিতির শেষ পরিণতি কী হবে, সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

তাই যেসব বিষয় আপনার হাতে রয়েছে, সেগুলোতেই মনোযোগ দিন। নিজের সিদ্ধান্ত, কাজ ও প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করুন।

১০. প্রকৃতির কাছে কিছুটা সময় কাটান

প্রতিদিন কিছুটা সময় বাইরে কাটানোর অভ্যাস করা যেতে পারে। পার্কে হাঁটা, বাগানে বসে থাকা কিংবা খোলা জায়গায় কিছুক্ষণ সময় কাটানো ব্যস্ত জীবনের মধ্যে ছোট একটি বিরতি এনে দিতে পারে।

এতে চারপাশের পরিবেশ এবং বর্তমান মুহূর্তের দিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, যা মানসিকভাবে স্বস্তি দিতে পারে।

সুখী থাকার অর্থ সবসময় আনন্দের মধ্যে থাকা নয়। জীবনে সমস্যা, হতাশা কিংবা কঠিন সময় আসবেই। তবে কোন বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে, কোন বিষয় ছেড়ে দিতে হবে এবং পরিস্থিতির সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নিতে হবে, সেসব বিষয়ে নিজের কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকতে পারে।

তাই একবারে পুরো জীবন বদলে ফেলার চেষ্টা না করে প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসে পরিবর্তন আনা দিয়েই শুরু করা যেতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button