
রেলস্টেশন মানেই শুধু ট্রেনে ওঠানামার জায়গা নয়। আধুনিক স্থাপত্য, অভিনব নকশা ও নগর পরিকল্পনার সমন্বয়ে বিশ্বের কিছু স্টেশন এখন নিজেরাই দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
২০২৬ সালের ‘প্রিক্স ভার্সাই’ আয়োজনে এমনই স্থাপত্য ও নকশার বৈচিত্র্যে নজরকাড়া সাতটি রেলস্টেশনকে তুলে ধরা হয়েছে। প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে আয়োজিত এই স্বীকৃতিতে ইতালি, সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেশন স্থান পেয়েছে।
১. মন্টে সান্ত’আঞ্জেলো স্টেশন, নেপলস, ইতালি
ইতালির নেপলসের মন্টে সান্ত’আঞ্জেলো স্টেশনটি নকশা করেছেন বিখ্যাত শিল্পী অনিশ কাপুর ও ফিউচার সিস্টেমস। মাটির প্রায় ৪৮ মিটার গভীরে তৈরি এই স্টেশনের নকশায় কর্টেন স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবহার রয়েছে।
আগ্নেয়গিরির গুহার মতো কাঠামো এবং ভিন্নধর্মী উপকরণের ব্যবহার স্টেশনটিকে অন্যদের তুলনায় আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।
২. কলোসেও–ফোরি ইম্পেরিয়ালি স্টেশন, রোম
রোমের এই মেট্রো স্টেশনটি মাটির প্রায় ৩০ মিটার নিচে নির্মিত। নির্মাণকাজের সময় পাওয়া প্রাচীন রোমান নিদর্শনগুলোকেও স্টেশনের নকশার অংশ করা হয়েছে।
স্টেশনের একটি বিশেষ জায়গা থেকে ওপরের ঐতিহাসিক কলোসিয়ামের দৃশ্য দেখা যায়। ফলে আধুনিক পরিবহনব্যবস্থার সঙ্গে প্রাচীন রোমের ইতিহাসেরও এক ধরনের সংযোগ তৈরি হয়েছে এখানে।
৩. ন্যাশনাল মিউজিয়াম স্টেশন, রিয়াদ
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের ন্যাশনাল মিউজিয়াম স্টেশনের নকশায় দেশটির ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের ছাপ রয়েছে।
তুওয়াইক পর্বতের আকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত কাঠামোর পাশাপাশি ত্রিভুজাকৃতির নকশা এবং আলো-ছায়ার ব্যবহার স্টেশনটির অন্যতম আকর্ষণ। আধুনিক নির্মাণশৈলীর সঙ্গে স্থানীয় ঐতিহ্যের সমন্বয় এখানে বিশেষভাবে চোখে পড়ে।
৪. টাউন হল স্টেশন, মেলবোর্ন
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের টাউন হল স্টেশনটি দেখতে অনেকটা বিশাল ক্যাথেড্রালের মতো। স্টেশনের ভেতরে রয়েছে গাছের আকৃতির স্তম্ভ এবং প্রায় ১০ মিটার উঁচু তামার ছাদ।
প্রশস্ত প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি ভূগর্ভের এই স্টেশনে খোলামেলা ও আলো-বাতাসপূর্ণ পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।
৫. ওয়েস্টার্ন স্টেশন, রিয়াদ
রিয়াদের ওয়েস্টার্ন স্টেশনের নকশায় মরুভূমির বালিয়াড়ির প্রভাব স্পষ্ট। বাঁকানো ছাদ ও বালুরঙা দেয়াল স্টেশনটিকে বিশেষ চেহারা দিয়েছে।
তবে এটি শুধু যাত্রীদের ওঠানামার জায়গা নয়। স্টেশনের আশপাশে বাগান, দোকান, হাঁটার জায়গা এবং একটি মসজিদও রয়েছে। ফলে পুরো এলাকাটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ জনপরিসর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
৬. লিওঁ পার-দিয়ু স্টেশন, ফ্রান্স
ফ্রান্সের লিওঁ শহরের লিওঁ পার-দিয়ু স্টেশনটি আশপাশের এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।
স্টেশনটিতে রয়েছে বড় সাইকেল পার্কিং, একাধিক স্তরের গ্যালারি এবং পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত জায়গা। ঐতিহাসিক লিওঁ শহরের স্থাপত্যও এর নকশায় প্রভাব ফেলেছে।
৭. এলএএক্স/মেট্রো ট্রানজিট সেন্টার, লস অ্যাঞ্জেলেস
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের এই ট্রানজিট সেন্টারটি প্রায় ১১ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত। এর নকশায় প্রাকৃতিক আলো ও বাতাসের ব্যবহার বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির লাইট রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকার যোগাযোগ সহজ করতেও স্টেশনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্থাপত্য, নকশা ও ব্যবহারিক সুবিধার এই বৈচিত্র্যের কারণে স্টেশনগুলো এখন শুধু যাতায়াতের অবকাঠামো নয়। আধুনিক নগর পরিকল্পনা ও স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবেও এগুলো নজর কেড়েছে।



