শাহজালাল বিমানবন্দরে ইভ টিজিংয়ের দায়ে দুইজনের কা/রাদণ্ড
সাত দিনে দুই নারীকে উত্যক্তের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষ্য ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তাঁদের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত সাত দিনে নারী যাত্রী ও তাঁদের স্বজনদের উত্যক্ত করার দায়ে দুই ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর এপিবিএন ও বিমানবাহিনীর সহায়তায় তাঁদের হাতেনাতে আটক করা হয়।
বিমানবন্দরের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কে এম আবু নওশাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষীদের সাক্ষ্য এবং আটক ব্যক্তিদের দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী তাঁদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিমানবন্দরে যোগদানের প্রায় এক বছর আগে কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই ইভ টিজারকে এক বছর ও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তাঁর দাবি, ওই শাস্তির পর দীর্ঘদিন বিমানবন্দরে নারী উত্যক্তের কোনো অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিজস্ব সক্ষমতার তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি যাত্রীকে সেবা দিয়ে থাকে। যাত্রীদের বিদায় জানাতে বা অভ্যর্থনা জানাতে অনেক স্বজন বিমানবন্দরে আসেন। কর্তৃপক্ষ একজন যাত্রীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন সহযাত্রী আসার নিয়ম করলেও অনেকেই তা মানেন না। ফলে ব্যস্ত সময়ে বিমানবন্দরে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়। আর এই ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি নারীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা বা উত্যক্ত করার চেষ্টা করেন।
বিমানবন্দর এলাকায় এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে এয়ারপোর্ট এপিবিএন, আনসার বাহিনী, বিমানবাহিনীসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে বলে জানান তিনি। সাম্প্রতিক ঘটনায়ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় অভিযুক্তদের আটক করে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সব পুরুষের দায়িত্ব উল্লেখ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, কোথাও ইভ টিজিংয়ের ঘটনা দেখলে যাচাই করে অপরাধীকে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া উচিত।
বিমানবন্দরে কেউ ইভ টিজিংয়ের শিকার হলে বা এ ধরনের ঘটনা দেখলে নিকটস্থ এপিবিএন, আনসার সদস্য কিংবা বিমানবাহিনীর সদস্যদের জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া সরাসরি বিমানবন্দরের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর **০১৩০৪০৫০৬০৩**-এ অভিযোগ জানানো যাবে।
অভিযোগ জানানোর সময় প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংরক্ষণের পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারীর সম্মান ও গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।



