যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাজিমাত ৪ বাংলাদেশির

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে স্থানীয় রাজনীতিতে বড় সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৪ মার্কিন রাজনীতিকরা। গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিউ হ্যাম্পশায়ার, জর্জিয়া, কানেকটিকাট ও নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্য থেকে জয় পেয়েছেন চার বাংলাদেশি-আমেরিকান। তাঁদের এই সাফল্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে।
বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন —আবুল খান, শেখ রহমান, মাসুদুর রহমান ও হাসিব ফাতেমী। তাঁদের মধ্যে একজন রিপাবলিকান পার্টির এবং বাকি তিনজন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন।
নিউ হ্যাম্পশায়ার স্টেটের প্রতিনিধি হিসেবে সপ্তমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন পিরোজপুরের সন্তান আবুল খান। তিনি রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী।
অন্যদিকে, জর্জিয়া স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট-৫ থেকে পঞ্চম মেয়াদে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন কিশোরগঞ্জের সন্তান শেখ রহমান। ডেমোক্রেটিক পার্টির এই প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
কানেকটিকাট স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট-৪ থেকে তৃতীয়বারের মতো জয় পেয়েছেন চাঁদপুরের সন্তান মাসুদুর রহমান। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি এবারও বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।
নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট-১৮ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন গাজীপুরের সন্তান হাসিব ফাতেমী। তিনিও ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
আরও পড়ুনঃ প্রবাসে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন? দেশ ছাড়ার আগে অবশ্যই জেনে নিন এই ১০ বিষয়
এদিকে, ভার্জিনিয়া স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট-৩৭-এর দায়িত্বে রয়েছেন নোয়াখালীর সন্তান সাদ্দাম আজলান সেলিম। ডেমোক্রেটিক পার্টির এই রাজনীতিক ২০২৪ সালে নির্বাচিত হন। ওই আসনে পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা আগামী বছর।
মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিকদের জয়কে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন প্রবাসীরা। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব ক্রমেই বাড়ছে।
ব্রঙ্কসে বসবাসরত মূলধারার রাজনীতিক শাহজাহান শেখ বলেন, গত দুই বছরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভোটাররা তাঁদের অবস্থান ব্যালটের মাধ্যমে জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এবারের নির্বাচনের ফল রাজনীতিক ও নীতিনির্ধারকদের চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও রাজনীতি নিয়ে কাজ করা ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড গ্লোবাল ক্যাম্পাসের অধ্যাপক ফাইজুল ইসলাম বলেন, মিথ্যাচার ও ভণ্ডামি দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। তাঁর মতে, ট্রাম্পের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা গেছে নির্বাচনের ফলাফলে।
অধ্যাপক ফাইজুল ইসলামের ভাষ্য, ট্রাম্পের কারণে রিপাবলিকান পার্টির রাজনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়েছে। দলটির ঘুরে দাঁড়াতে হলে নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।
চার অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার রাজনীতিকের এই বিজয় প্রবাসীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব ও সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।



