
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের অবসান হলে বিশ্ববাজারে তেলের দামও দ্রুত কমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ট্রাম্পের দাবি, ইরানের পরমাণু সক্ষমতা ইতিমধ্যে ধ্বংস করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় বুধবার (৭ অক্টোবর) ওয়াশিংটন থেকে টেক্সাসের সান আন্তোনিওতে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ‘আমাদের যা করতে হবে, সেই দিক থেকে এটি একটি যুদ্ধ। ইরানকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে হবে আমাদের। আমরা তাদের পরমাণু শক্তি কেড়ে নিয়েছি। তাদের হাতে পরমাণু শক্তি থাকলে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো, যা আগে কখনো দেখেননি।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে তাদের গোটা দেশ কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হবে। আর তা শেষ হলেই তেলের দাম হুড়মুড়িয়ে কমে যাবে।’
তবে যুদ্ধের অবসান নিয়ে ট্রাম্পের আশাবাদী বক্তব্যের পাশাপাশি ইরানের পক্ষ থেকেও পাল্টা প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানের জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগের পেছনে মার্কিন সামরিক চাপের ভূমিকা রয়েছে বলে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমে মোহাজেরানি বলেছেন, মার্কিন যুদ্ধের চাপের কারণে জ্বালানিমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, ট্রাম্পের এই দাবি সঠিক নয়। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের বক্তব্যকে নিজের ব্যর্থতা আড়াল করার নিষ্ফল প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
মোহাজেরানি বলেন, জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দুর্বলতার লক্ষণ নয়। বরং এটি একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে নমনীয়তার উদাহরণ।
এর আগে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের জ্বালানিমন্ত্রী সদ্য পদত্যাগ করেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ওই মন্ত্রী তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমাদের কোনো অর্থনীতি নেই, আমাদের কোনো তেল নেই, আমাদের কিছুই নেই।’
তবে ইরান সরকারের মুখপাত্র ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগকে যুদ্ধের চাপে ইরান দুর্বল হয়ে পড়ার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টাও নাকচ করেছেন তিনি।



