আন্তর্জাতিক

দিল্লিতে আটক ৩ হাজার বিক্ষোভকারী মুক্ত, হেফাজতে অভিজিৎ ও ধ্রুবসহ ৪

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের জেরে রাজধানী দিল্লিতে আটক তিন হাজার বিক্ষোভকারীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী এবং দলের আরও দুই নেতা।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে কারচুপির অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে সমাবেশের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। তবে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দিনভর উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে রাজধানীজুড়ে। বিক্ষোভ ঠেকাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে তিন হাজারের বেশি মানুষকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারাও।

আটক ব্যক্তিদের তালিকায় চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন আম আদমি পার্টির (আপ) অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বামপন্থী রাজনীতিক পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকার। মধ্যরাতের পর স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অনেকেই মুক্তি পান। তবে সিজেপির কয়েকজন নেতা ও ধ্রুব রাঠী তখনো পুলিশের হেফাজতে ছিলেন।

ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও মুক্তি পাননি সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শনিবার দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পরপরই উড়োজাহাজ থেকে তাঁকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে দলের নেতা আশুতোষ রঙ্কা ও সৌরভ দাসকেও আটক করে পুলিশ।

এর মধ্যে মহারাষ্ট্রে অভিজিতের দাদির মৃত্যুর খবর আসে। পুলিশ তাঁকে শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার কথা বললেও শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর মুক্তির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিক্ষোভ ঘিরে অচলাবস্থা, বন্ধ ছিল মেট্রো স্টেশন

যন্তর মন্তরে সমাবেশের অনুমতি না থাকায় দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। রোববারও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। সিজেপি প্রতিদিন যন্তর মন্তরে মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা বহাল থাকবে। এ ছাড়া কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ সোমবার আরও বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।

বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীজুড়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। এ ছাড়া ২৫০টির বেশি ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়। যন্তর মন্তরের আশপাশের চার কিলোমিটার এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছিল।

বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই অনেকে বাড়ি বা হোটেল থেকে বের হওয়ার পর পুলিশের হাতে আটক হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। তাঁকে গুরুগ্রাম থেকে আটক করা হয়।

এদিকে প্রতিবাদী ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেত্রী নেহা বোরা দিল্লি হাটের কাছে অবস্থান কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিপেটা করে বিক্ষোভকারীদের প্রিজনভ্যানে তুলে নেয়।

নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক আটক, গণপরিবহন বন্ধ এবং ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিতের ঘটনা রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button