আন্তর্জাতিক

‘আমাদের ইউরেনিয়াম অন্য কোথাও যাবে না’: ইরান

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, ইরানের কোনো পারমাণবিক উপাদান দেশের বাইরে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরুর আগে আস্থা তৈরিতে অর্থবহ পদক্ষেপ নেওয়ার শর্ত দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার ইরান সফররত পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন রেজায়ি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান এবং শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে নতুন করে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছেন পাকিস্তানের এই সামরিক কর্মকর্তা।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদানের সামান্য অংশও দেশের বাইরে পাঠানো হবে না। রেজায়ি বলেন, এই উপাদান ইরানের জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও জাতীয় ঐশ্বর্য। দেশের ভেতরেই ব্যবহারের জন্য তা সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আস্থা তৈরির জন্য অর্থবহ পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না। ইরানের শর্ত পূরণের মধ্য দিয়েই আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে বলে আসিম মুনিরকে জানান তিনি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। এরপরই কেবল আলোচনায় বসতে পারে তেহরান। তাঁর ভাষ্য, সাধারণ ইরানিরা এখন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেন না। তাঁদের আশঙ্কা, আলোচনায় বসার পরও যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানে হামলা চালাতে পারে।

অন্যদিকে গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাতটি শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত দেশটির আস্থা অর্জন করতে পারবে না। তাঁর মতে, হুমকি কিংবা সামরিক মহড়া দিয়ে ইরানের কৌশলগত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবটি এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগের অংশ হিসেবে। পাকিস্তান প্রস্তাব দিয়েছিল, তেহরান যেন তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অথবা এর একটি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তর করে। তবে ইরান সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও স্থায়ী সমাধানের কোনো কাঠামো তৈরি হয়নি। পরে সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হলেও তা কার্যকর কোনো ফল বয়ে আনেনি।

ইরানের দাবি ও পারমাণবিক কর্মসূচি

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। ওই সময় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছিল।

যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধবিরতি, বিদেশে আটকে থাকা দেশটির সম্পদ অবমুক্ত করা এবং তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ একাধিক দাবি জানিয়েছে।

এর আগে তেহরান জানিয়েছিল, তাদের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম অন্য কোনো দেশের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। তবে ইরানের ভেতরেই ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধির মাত্রা কমিয়ে আনার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল দেশটি।

৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অস্ত্র তৈরির উপযোগী ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধির মাত্রার চেয়ে কম হলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্বেগের কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদ্বেগ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে ইরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button