জাতীয়

চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিএনপিতে জায়গা নেই: তারেক রহমান

দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিএনপিতে জায়গা হবে না। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংসদ সদস্যদের (এমপি) নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠপর্যায়ে সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন তিনি।

রোববার বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এসব নির্দেশনা দেন তারেক রহমান। জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া সভা শেষ হয় রাত ৯টা ২০ মিনিটে। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।

সভা সূত্রে জানা যায়, সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘কেউ জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সংসদ-সদস্যদেরও জবাবদিহি করতে হবে।’ অনেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ শোনা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যরা যদি কর্মীবান্ধব না হয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, তাহলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ সময় তিনি সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যার কথাও জানতে চান।

সভায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা দখল, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কারে গঠিত বিশেষ কমিটির কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান তুলে ধরা হয় সভায়।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে প্রস্তুতি, সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখা এবং প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে প্রাথমিক দিকনির্দেশনা দেন তারেক রহমান। দলের নেতাকর্মী, সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রী, কেউ কোনো অপকর্মে জড়ালে তাঁকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সভায় অংশ নেওয়া এক সংসদ সদস্য বলেন, সরকার গঠনের পর গত আট মাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কী কাজ হয়েছে, সেসব কাজের অগ্রগতি কতটা এবং বাস্তবায়নে কোনো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না, তা জানতে চান প্রধানমন্ত্রী।

ওই সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার সমস্যা এবং স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা সম্পর্কেও সংসদ সদস্যদের কাছে খোঁজ নেন তারেক রহমান।

জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু *যুগান্তর*কে বলেন, সভায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রী তাগিদ দিয়েছেন।

দুলু আরও বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জনপ্রিয় ও যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, সভায় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের জনগণের পাশে থেকে কাজ করার এবং মানুষকে সন্তুষ্ট রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দলের সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সাধারণত জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর আগের দিন অথবা অধিবেশন শুরুর দিন এ ধরনের সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সম্ভাব্য সংসদ অধিবেশনের আগেই বিশেষ এ সভা আহ্বান করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button