জাতীয়

সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করে দেশের ভেতরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর দাবি, পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শক্তি দেশের কয়েকটি কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ কাজে দেশের ভেতরে বিভ্রান্তি ছড়ানো একটি পক্ষকে তারা অর্থ দিয়ে সহায়তা করছে।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আখচাষিদের মধ্যে প্রণোদনা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের পাশাপাশি জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে। দেশের কয়েকটি কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি পরিষ্কার করে হাজারও মানুষের সামনে একটি কথা বলতে চাই, পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে তারা অর্থ সরবরাহ করছে।’

অর্থ সরবরাহ করে তারা কাদের সহায়তা করছে, সেই প্রশ্ন তুলে তারেক রহমান বলেন, দেশে যারা বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং নির্বাচনের আগে মিথ্যা কথা বলে বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল, সেই দুই পক্ষ এক হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এক পক্ষ সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিচ্ছে, আরেক পক্ষ দেশের ভেতরে বসে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। এদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শক্তি পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত মানুষকে হত্যা করেছে। শহীদদের স্মরণে ঢাকায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। বিএনপি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে, একইভাবে ধারণ করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকেও।

তারেক রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

একাত্তরে যারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছিল, তারাই ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও একই কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। যারা মুখে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের চেতনার কথা বলে, তাদেরও দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই দলগুলোর কোনো প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।

তারেক রহমান বলেন, ‘অর্থাৎ একাত্তর সালে তারা জনগণকে যেভাবে ধোঁকা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও তারা ধোঁকা দিয়েছে। তারা মুখে একটি বলছে। আর তাদের কর্মে আমরা আরেকটি কাজ ও প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।’

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ধরনের টিকিট বিক্রির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ তাদের সেই টিকিট গ্রহণ করেনি। তখন তারা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়েও আপত্তি তুলেছিল। কিন্তু ফ্যামিলি কার্ড বন্ধ হলে মা ও বোনেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে কি না।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে তারা যেন কী টিকিট বিক্রি করেছিল। সেই টিকিট জনগণ খায় না। তখন বলেছিল, রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড। ফ্যামিলি কার্ড বন্ধ হলে মা-বোন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাদের তো কিছু যায় আসে না। আজ আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড চালু করব কি না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ চালু রাখার পক্ষে জনগণের অবস্থান যদি ইতিবাচক হয়, তাহলে ১২ তারিখে যেভাবে বিএনপির পাশে ছিলেন, আগামী পাঁচ বছরও দলটিকে সমর্থন দিয়ে যেতে হবে।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেসব দল ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত সুযোগ পেলেই জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে এবং দেশকে ভিন্ন পথে নেওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button