
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশের মাঠপর্যায়ের প্রায় ৫০০টি কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের সব উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসানোর সিদ্ধান্ত নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে কমিশন সচিবালয়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, এ সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ইসি সচিব আখতার আহমেদ ইতিমধ্যে কমিশনের সংস্থাপন শাখাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ইসি জানায়, মাঠপর্যায়ের যেসব কার্যালয়ে ভবনের ওপরের দিকে নতুন তলা নির্মাণ বা সম্প্রসারণের কাজ চলছে, সেসব প্রকল্পের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ ধরনের প্রকল্পের অনাপত্তিপত্রে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতেও উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আসন্ন সমন্বয় সভার প্রস্তুতি হিসেবে মাঠপর্যায়ের কার্যালয়গুলোতে থাকা মালামাল ও সরঞ্জামের হালনাগাদ তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় ভোটার নিবন্ধন ফরম-২ হালনাগাদ করার প্রস্তাব আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠ কার্যালয়গুলোতে কী পরিমাণ মালামাল মজুত রয়েছে এবং কোন কোন সরঞ্জাম সচল ও অচল অবস্থায় আছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে হবে। এসব তথ্য পরবর্তী সমন্বয় সভায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিশন সচিবালয়ের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের জন্য বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিপিএটিসি) চালু থাকা দুই মাস মেয়াদি বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ (এসএফটিসি) বাতিল করা হচ্ছে।
এর পরিবর্তে আগের নিয়মে ক্যাডার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে (এফটিসি) অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করতে চায় কমিশন। এ জন্য বিপিএটিসির সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও অন্যান্য পদক্ষেপ নিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ, মাঠ কার্যালয়ের সরঞ্জামের হিসাব হালনাগাদ এবং প্রশিক্ষণব্যবস্থায় পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের দাপ্তরিক কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।



