কুমিল্লায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভুশ্চি বাজারে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পথচারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লালমাই উপজেলার হরিশ্চরে আয়োজিত র্যালি ও সমাবেশে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন নেতা-কর্মীরা। পথে ভুশ্চি বাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী আলমগীর হোসেনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে বিএনপির অপর একটি পক্ষের বিরুদ্ধে।
পরে সন্ধ্যায় হরিশ্চরের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ উদ্দিন ও শামীম ইকবাল এবং যুবদলের কর্মী মো. মামুন ও সাদ্দাম হোসেনসহ দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ছাড়া আহত হন দুই পথচারীও। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে লালমাই থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় লালমাই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোজাম্মেল হক অভিযোগ করেন, কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সমর্থক নেতা-কর্মীরা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে অংশ নিয়ে মূল অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লালমাইয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। ভুশ্চি বাজার এলাকায় পৌঁছালে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরীর সমর্থক নেতা-কর্মীরা ওই মিছিলে হামলা চালান।
অন্যদিকে লালমাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী মীর পিন্টু বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর বিষয়ে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। এ সময় সেখানে কয়েকজন এসে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরে তা সংঘর্ষে গড়ায়।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।



