Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
অন্য খবর

সুস্থ থাকতে ঘরোয়া ৭ উপায়, ব্যবহারের আগে যা জানা জরুরি

ছোটখাটো শারীরিক অস্বস্তি দূর করতে অনেকেই ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর করেন। পুদিনা, মধু, আদা, হলুদ কিংবা রসুনের মতো পরিচিত উপকরণ বহুদিন ধরেই বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিছু ক্ষেত্রে এসব উপকরণ উপসর্গ কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে সব ঘরোয়া প্রতিকারের কার্যকারিতা সমানভাবে প্রমাণিত নয়। আবার কোনো কোনো উপকরণ ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

তাই নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে, দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগ থাকলে কিংবা নতুন কোনো প্রতিকার ব্যবহার করতে চাইলে চিকিৎসক বা ওষুধ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ঘরোয়া উপায় ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

১. পুদিনা

পুদিনা বহুদিন ধরে খাবার ও ঘরোয়া প্রতিকারে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে পুদিনার তেল ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের (আইবিএস) কিছু উপসর্গ কমাতে সহায়ক হতে পারে। এটি পরিপাকতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি একটি সমস্যা, যার ফলে পেটে ব্যথা, পেট ফাঁপা, গ্যাস, ডায়রিয়া কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।

কিছু গবেষণায় পুদিনার তেল আইবিএসের উপসর্গ কমাতে উপকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নির্দিষ্ট ধরনের মাথাব্যথায়ও এটি কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে বলে ধারণা রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে আরও গবেষণা প্রয়োজন। অন্যান্য রোগের চিকিৎসায় পুদিনার পাতা ব্যবহারের প্রচলন থাকলেও সেসব ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতার পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

পুদিনার তেল ও পাতা এক জিনিস নয়। বিশেষ করে ঘন পুদিনার তেল সরাসরি খাওয়া বা ত্বকে লাগানোর আগে এর নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি।

২. মধু

কাশি কমাতে মধু কিছুটা উপকার দিতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের সর্দি-কাশির সঙ্গে হওয়া কাশি প্রশমনে এটি সহায়ক হতে পারে। তবে সব ধরনের কাশির ক্ষেত্রে মধু সমানভাবে কাজ করে না এবং এটি কাশির মূল কারণের চিকিৎসার বিকল্প নয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এক বছরের কম বয়সী শিশুকে কোনোভাবেই মধু দেওয়া যাবে না। মধুতে ক্লস্ট্রিডিয়াম বটুলিনাম নামের ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকতে পারে, যা শিশুর অন্ত্রে বংশবিস্তার করে বিরল কিন্তু গুরুতর রোগ ইনফ্যান্ট বোটুলিজম সৃষ্টি করতে পারে।

অনেকে মৌসুমি অ্যালার্জি কমাতেও মধু খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে অ্যালার্জির উপসর্গ কমাতে মধুর কার্যকারিতার পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই অ্যালার্জির চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে মধুর ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।

৩. হলুদ

হলুদ রান্নার পরিচিত মসলা। এতে কারকিউমিন নামের একটি উপাদান রয়েছে, যা নিয়ে প্রদাহ কমানোর সম্ভাবনা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত প্রভাব সম্পর্কে গবেষণা হয়েছে। কিছু প্রাথমিক গবেষণায় অস্থিসন্ধির ব্যথা ও অস্টিওআর্থ্রাইটিসের নির্দিষ্ট উপসর্গ কমাতে কারকিউমিনের সম্ভাব্য উপকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এসব ফল নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

ফ্যাটি লিভারসহ বিভিন্ন রোগে হলুদ বা কারকিউমিনের কার্যকারিতা নিয়েও গবেষণা চলছে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে উপকারের যথেষ্ট প্রমাণ নেই। আলসার নিরাময় কিংবা বিকিরণ চিকিৎসার পর ত্বকের ফুসকুড়ি কমানোর মতো কিছু দাবির পক্ষেও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সীমিত।

রান্নায় স্বাভাবিক পরিমাণে হলুদ ব্যবহার সাধারণত নিরাপদ। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে। হলুদের ঘন নির্যাস বা সম্পূরক গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো, কারণ এগুলো কিছু ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

৪. আদা

বমিভাব ও বমি কমাতে আদা ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। এ বিষয়ে গবেষণায় কিছু উপকারের প্রমাণও পাওয়া গেছে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় বমিভাব কমাতে আদা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। মাসিকের ব্যথা কমাতেও এটি কিছুটা উপকার দিতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তবে আদা সবার জন্য সমানভাবে উপকারী নয়। কারও কারও ক্ষেত্রে এটি খেলে পেটে অস্বস্তি, বুকজ্বালা, গ্যাস কিংবা ডায়রিয়া হতে পারে। আদার সম্পূরক কিছু ওষুধের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে বা দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে বেশি পরিমাণে আদা কিংবা এর সম্পূরক ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৫. গ্রিন টি

গ্রিন টি বা সবুজ চায়ে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এসব উপাদান শরীরের কোষকে ক্ষতিকর অণুর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে গ্রিন টির সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকার নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে।

কিছু গবেষণায় নিয়মিত চা পানের সঙ্গে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের কিছু ইতিবাচক সম্পর্ক দেখা গেছে। তবে গ্রিন টি পান করলেই হৃদ্‌রোগ বা ক্যানসারের ঝুঁকি নিশ্চিতভাবে কমে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ নেই। ত্বক, স্তন, ফুসফুস ও বৃহদান্ত্রের ক্যানসার প্রতিরোধে গ্রিন টির ভূমিকা নিয়েও গবেষণা চলছে, তবে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত নয়।

গ্রিন টিতে ক্যাফেইন থাকে। তাই অতিরিক্ত পান করলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা বা বুক ধড়ফড় করার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ঘন গ্রিন টি নির্যাস বা সম্পূরক গ্রহণের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

৬. রসুন

রসুন শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ায় না, এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকার নিয়েও গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, রসুন খাওয়া রক্তের মোট কোলেস্টেরল ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা সামান্য কমাতে সাহায্য করতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রেও কিছু মানুষের উপকার হতে পারে, তবে প্রভাব সাধারণত সীমিত।

রসুন বেশি খাওয়ার সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা রয়েছে। কিন্তু এ ধরনের সম্পর্ক থেকে রসুন সরাসরি ক্যানসার প্রতিরোধ করে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। রসুনের সম্পূরক থেকে সাধারণ রসুন খাওয়ার মতো একই উপকার পাওয়া যায়, এমন প্রমাণও নেই।

রসুন বেশি খেলে পেটে অস্বস্তি, গ্যাস বা বুকজ্বালা হতে পারে। এ ছাড়া রসুনের সম্পূরক রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করলে বা অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের সম্পূরক ব্যবহার করা উচিত নয়।

৭. উষ্ণ পানিতে গোসল

উষ্ণ পানিতে গোসল করলে পেশির টান কমতে পারে এবং শরীর কিছুটা আরাম পেতে পারে। পিঠের ব্যথা, অস্থিসন্ধির অস্বস্তি কিংবা পেশির শক্তভাবের ক্ষেত্রে উষ্ণতা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। উষ্ণ পানিতে থাকাকালে শরীর আরামদায়ক অবস্থায় রেখে ধীরে ধীরে হাত-পা নাড়ানো বা হালকা প্রসারণের ব্যায়াম করা যেতে পারে, যদি তাতে ব্যথা না বাড়ে।

তবে উষ্ণ পানিতে গোসল সব ধরনের পেশি, হাড় বা অস্থিসন্ধির সমস্যার চিকিৎসা নয়। আঘাতের কারণে নতুন করে ফোলা বা প্রদাহ হলে অতিরিক্ত তাপ কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই পরিস্থিতি বুঝে উষ্ণ বা ঠান্ডা সেঁক বেছে নেওয়া প্রয়োজন।

গোসলের পানি অতিরিক্ত গরম হওয়া উচিত নয়। সাধারণভাবে ৯২ থেকে ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৩৩ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানি অনেকের জন্য আরামদায়ক হতে পারে। তবে ব্যক্তিভেদে সহনশীলতা আলাদা। ত্বকের সমস্যা, অনুভূতি কমে যাওয়ার সমস্যা কিংবা রক্তসঞ্চালনের জটিলতা থাকলে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

পরিচিত কোনো উপকরণ প্রাকৃতিক হলেই তা সব সময় নিরাপদ বা কার্যকর হবে, এমন নয়। ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহারের আগে এর সম্ভাব্য উপকার, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি জানা জরুরি। উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে, বাড়তে থাকলে বা গুরুতর হলে চিকিৎসা নিতে দেরি করবেন না। ঘরোয়া উপায়কে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিকল্প না ভেবে সহায়ক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করাই ভালো।

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button