
একসময় সিল্ক রোডের বাণিজ্যপথের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল ইস্তাম্বুল। ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত এই শহরের মধ্য দিয়ে একসময় বিখ্যাত ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাপথও বিস্তৃত ছিল। এবার আকাশপথে আন্তর্জাতিক সংযোগের ক্ষেত্রেও নতুন রেকর্ড গড়েছে তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর। বিশ্বের সবচেয়ে সংযুক্ত বিমানবন্দরের তালিকায় প্রথমবারের মতো শীর্ষস্থান দখল করেছে এটি। দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষে থাকা যুক্তরাজ্যের লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দর নেমে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে।
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ওএজির প্রকাশিত ২০২৬ সালের ‘মেগাহাবস’ সূচকে এ চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর। এবার হিথ্রোকে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো শীর্ষস্থান অর্জন করল বিমানবন্দরটি।
৩৩৭ গন্তব্যে সংযোগ
ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর থেকে বিশ্বের ৩৩৭টি গন্তব্যে যাতায়াতের সংযোগ রয়েছে। বিমানবন্দরটির মোট ফ্লাইটের প্রায় ৮০ শতাংশ পরিচালনা করে তুরস্কের উড়োজাহাজ সংস্থা তুর্কিশ এয়ারলাইনস। সংস্থাটির বিস্তৃত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ইস্তাম্বুলের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যের আকাশপথের যোগাযোগ জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ওএজির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বের ১০০টি বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্ধারিত ফ্লাইটের তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বিমানবন্দরগুলোতে অবতরণকারী ও সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের মধ্যে সম্ভাব্য সংযোগের সংখ্যা এবং প্রতিটি বিমানবন্দর থেকে কতটি গন্তব্যে যাতায়াত করা যায়, তা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ বছরের সূচকে ব্যস্ততম দিনে ছয় ঘণ্টার মধ্যে ফ্লাইট পরিবর্তন করে অন্য গন্তব্যে যাওয়ার সম্ভাবনাও হিসাব করা হয়েছে।
কেন এগিয়ে ইস্তাম্বুল?
ইস্তাম্বুলের ভৌগোলিক অবস্থান বিমানবন্দরটির এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় শহরটি দীর্ঘদিন ধরে দুই মহাদেশের মধ্যে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তুর্কিশ এয়ারলাইনসের বিস্তৃত ফ্লাইট নেটওয়ার্ক এবং ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের বড় পরিসরের অবকাঠামো।
ওএজির প্রধান বিশ্লেষক জন গ্রান্টের মতে, তুর্কিশ এয়ারলাইনসের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক এবং ইস্তাম্বুলের ভৌগোলিক অবস্থান বিমানবন্দরটির শীর্ষে উঠে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের সুযোগ মাথায় রেখে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর নির্মাণ করা হয়েছে। এর রানওয়ে ও টার্মিনাল অবকাঠামোও বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এবং যাত্রীদের সংযোগ সামলানোর উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে।
দ্বিতীয় হিথ্রো, তৃতীয় আমস্টারডাম
গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে সংযুক্ত বিমানবন্দরের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল লন্ডন হিথ্রো। এবার সেটি দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে। গত বছরের তুলনায় হিথ্রো বিমানবন্দরের সম্ভাব্য ফ্লাইট সংযোগ কমেছে ৬ শতাংশ।
এর পেছনে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রভাব রয়েছে। ওই অঞ্চলের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল কমে যাওয়ায় হিথ্রোর আন্তর্জাতিক সংযোগও প্রভাবিত হয়েছে। গত আগস্টে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে হিথ্রো বিমানবন্দরের উড়োজাহাজের আসনসংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম ছিল।
ওএজির তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম শিফল বিমানবন্দর। চতুর্থ স্থানে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এশিয়ার সবচেয়ে সংযুক্ত বিমানবন্দরও এটি।
তালিকায় পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও’হেয়ার বিমানবন্দর। ২০২৫ সালে সপ্তম অবস্থানে থাকা বিমানবন্দরটির সম্ভাব্য ফ্লাইট সংযোগ এবার ৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। সংযোগের এই প্রবৃদ্ধির ফলে বিশ্বের সবচেয়ে সংযুক্ত বিমানবন্দরগুলোর তালিকায় দুই ধাপ এগিয়েছে এটি।



