
কলা খাওয়ার পর খোসা সাধারণত ফেলে দেওয়া হয়। তবে বাড়িতে গাছ থাকলে এই খোসা কাজে লাগানোর একটি উপায় রয়েছে। কলার খোসা ও পানি ব্লেন্ড করে তৈরি করা যায় একধরনের তরল, যা গাছের গোড়ায় ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে রান্নাঘরের বর্জ্যও কিছুটা কমানো সম্ভব।
কলার খোসায় পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান থাকে। উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে এসব পুষ্টি প্রয়োজন। তবে খোসা পানিতে মিশিয়ে তৈরি তরলে ঠিক কতটা পুষ্টি থাকে, তা নির্ভর করে খোসার পরিমাণ ও প্রস্তুতপ্রণালির ওপর। তাই এটিকে পূর্ণাঙ্গ সারের বিকল্প বা গাছ দ্রুত বড় করার নিশ্চিত উপায় ভাবা ঠিক নয়।
কলার খোসার পানি তৈরি করবেন যেভাবে
এই তরল তৈরি করতে প্রয়োজন হবে:
- দুই থেকে তিনটি কলার খোসা
- প্রায় এক লিটার পানি
- একটি ব্লেন্ডার
- একটি চালুনি বা মিহি ছাঁকনি
- একটি পরিষ্কার বোতল বা পাত্র
প্রথমে কলার খোসাগুলো ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। এতে ব্লেন্ডারে খোসা সহজে মিহি করা যাবে। এরপর কাটা খোসাগুলো প্রায় এক লিটার পানির সঙ্গে ব্লেন্ডারে দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। খোসাগুলো ছোট ছোট কণায় ভেঙে মিশ্রণ তৈরি হলে তা একটি পরিষ্কার পাত্রে ছেঁকে নিন।
ছেঁকে পাওয়া তরলটি গাছের গোড়ার মাটিতে অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা যায়। মিশ্রণটি ঘন মনে হলে আরও পানি মিশিয়ে পাতলা করা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, এই পদ্ধতিতে তৈরি তরলের পুষ্টিমান নির্দিষ্ট নয়। তাই এটিকে গাছের প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি সরবরাহের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
গাছে কলার খোসার পানি ব্যবহারের নিয়ম
গাছে পানি দেওয়ার সময় এই তরল অল্প পরিমাণে মাটিতে দেওয়া যেতে পারে। সরাসরি পাতার ওপর ঢালা বা স্প্রে করার প্রয়োজন নেই। টবে লাগানো গাছের ক্ষেত্রে পানি বের হওয়ার ছিদ্র আছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রতিবার গাছে পানি দেওয়ার সময় কলার খোসার পানি ব্যবহার করা উচিত নয়। মাটি আগে থেকেই ভেজা থাকলে আরও তরল না দিয়ে অপেক্ষা করুন। অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে শিকড়ের ক্ষতি হতে পারে, বিশেষ করে যেসব গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকা সহ্য হয় না।
এ ছাড়া খোসার কণা বা জৈব পদার্থযুক্ত মিশ্রণ দীর্ঘদিন রেখে দিলে পচন ও দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। তাই তৈরি করা তরল দ্রুত ব্যবহার করা এবং অবশিষ্ট মিশ্রণ দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ না করাই ভালো।
ঘরের ভেতরের গাছে ব্যবহার করা যাবে?
ঘরের ভেতরে টবে লাগানো অনেক গাছের গোড়ায় অল্প পরিমাণে কলার খোসার পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে মাটির আর্দ্রতা ও পানি নিষ্কাশনের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। মাটি ভেজা থাকলে নতুন করে তরল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। টবের নিচে পানি জমে থাকলেও তা সরিয়ে ফেলতে হবে।
ঘরের গাছের জন্য আগে থেকেই নির্দিষ্ট সার ব্যবহারের নিয়ম থাকলে কলার খোসার পানিকে তার বিকল্প হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। কারণ, বিভিন্ন গাছের পুষ্টির চাহিদা এক নয়। ফিডল-লিফ ফিগ, রসালো পাতার গাছ বা সাকুলেন্ট এবং ফুলের গাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও পানি দেওয়ার নিয়মে পার্থক্য রয়েছে।
তাই সব গাছের জন্য একই ধরনের ঘরে তৈরি সার উপযুক্ত হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। গাছের ধরন, মাটির অবস্থা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সার ও পানি ব্যবহার করাই ভালো।
কলার খোসা কাজে লাগানোর এই পদ্ধতি রান্নাঘরের বর্জ্য কমানোর একটি সহজ উপায় হতে পারে। তবে গাছের সুস্থ বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে শুধু কলার খোসার পানির ওপর নির্ভর না করে উপযুক্ত মাটি, সঠিক পরিমাণে পানি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম সার ব্যবহার করা জরুরি।



