প্রবাস

প্রবাসীদের বেতন আটকে রাখছে নিয়োগকর্তা? কোথায় অভিযোগ করবেন

বিদেশে চাকরি করছেন, কিন্তু মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছেন না? নিয়োগকর্তা বেতন আটকে রেখেছেন, ওভারটাইমের টাকা দিচ্ছেন না কিংবা কাজ করিয়েও পাওনা পরিশোধ করছেন না? এমন পরিস্থিতিতে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি ভয়, অসহায়ত্ব ও আইনি জটিলতার কারণে প্রতিবাদ করতে পারেন না।

অথচ বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদেরও বেতন ও চুক্তি অনুযায়ী পাওনা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বেতন না পেলে সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রম দপ্তর, বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং এবং বাংলাদেশের সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে।

জেনে নিন কোথায় অভিযোগ করবেন, কী কী প্রমাণ লাগবে এবং কীভাবে নিজের বকেয়া বেতন আদায়ের চেষ্টা করবেন।

বিদেশে বেতন আটকে রাখলে কী করবেন?

বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার সঙ্গে কর্মীর লিখিত চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। চুক্তিতে নির্ধারিত বেতন, কর্মঘণ্টা, ওভারটাইম ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী কর্মীর পাওনা পরিশোধ করার কথা।

কোনো নিয়োগকর্তা নিয়মিত বেতন না দিলে, কয়েক মাসের বেতন আটকে রাখলে কিংবা চুক্তির বাইরে কাজ করিয়ে অতিরিক্ত পাওনা না দিলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রম আইন অনুযায়ী অভিযোগের আওতায় আসতে পারে।

তবে কোন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে হবে, কত দিনের মধ্যে করতে হবে এবং কী ধরনের ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে, তা দেশভেদে আলাদা। তাই যে দেশে কর্মরত আছেন, সেই দেশের শ্রম আইন ও অভিযোগ জানানোর নিয়ম জানা জরুরি।

বেতন না পেলে যেসব ৭টি জায়গায় অভিযোগ করবেন

১. সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রম মন্ত্রণালয় বা শ্রম দপ্তর

বিদেশে বেতন না পেলে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি শ্রম দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

সাধারণত নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে বেতন বকেয়া, চুক্তি লঙ্ঘন, ওভারটাইমের টাকা না দেওয়া এবং শ্রমিকের অধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ এসব কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো যায়।

অভিযোগ করার সময় নিজের পাসপোর্ট, কাজের অনুমতিপত্র, নিয়োগপত্র এবং বেতনসংক্রান্ত প্রমাণ জমা দিতে হতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে:

সৌদি আরব: মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (MHRSD)-এর সংশ্লিষ্ট শ্রম অভিযোগ সেবা।

মালয়েশিয়া: Department of Labour Peninsular Malaysia (JTKSM) অথবা সংশ্লিষ্ট রাজ্যের শ্রম দপ্তর।

সংযুক্ত আরব আমিরাত: Ministry of Human Resources and Emiratisation (MOHRE)। ফ্রি জোনে কাজ করলে সংশ্লিষ্ট ফ্রি জোন কর্তৃপক্ষের নিয়মও প্রযোজ্য হতে পারে।

কাতার: Ministry of Labour-এর শ্রম অভিযোগ ব্যবস্থা।

কুয়েত: Public Authority for Manpower (PAM)।

ওমান: Ministry of Labour-এর সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ব্যবস্থা।

দেশভেদে অনলাইন, ফোন, সরাসরি অফিস কিংবা নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে।

২. বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার জায়গাগুলোর একটি হলো সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের শ্রম কল্যাণ উইং।

নিয়োগকর্তা বেতন আটকে রাখলে, পাসপোর্ট ফেরত না দিলে কিংবা চুক্তি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা না দিলে দূতাবাসের শ্রম উইংয়ে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন।

শ্রম কল্যাণ উইংয়ের মাধ্যমে যেসব সহায়তা পাওয়া যেতে পারে:

  • নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ ও অভিযোগ জানাতে সহায়তা।
  • বকেয়া বেতনসংক্রান্ত বিরোধে পরামর্শ।
  • সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ পাঠাতে সহায়তা।
  • শ্রমিকের আইনি অধিকার সম্পর্কে তথ্য প্রদান।
  • প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত সহায়তা ও বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে দিকনির্দেশনা।

বাংলাদেশের কুয়েত দূতাবাসের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকেরা দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের কাছ থেকে পরামর্শ ও সহায়তা নিতে পারেন। শ্রমসংক্রান্ত বিরোধে কুয়েতের Public Authority for Manpower-এ অভিযোগ জানানোর বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

kuwait.mofa.gov.bd

৩. প্রবাসবন্ধু কল সেন্টার ১৬১৩৫

বিদেশ থেকে +৮৮০ ৯৬১০ ১০২ ০৩০ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। বাংলাদেশ থেকে ১৬১৩৫ নম্বরে টোল ফ্রি কল করা যায়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।

প্রবাসী কর্মী নিজে অথবা বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা এ নম্বরে যোগাযোগ করে সমস্যার কথা জানাতে পারেন।

ফোন করার সময় কোন দেশে কর্মরত, কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, কত মাসের বেতন বকেয়া এবং নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, তা পরিষ্কারভাবে জানাবেন।

৪. ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকের কল্যাণ ও বিভিন্ন সমস্যায় সহায়তার জন্য রয়েছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (WEWB)।

বিদেশে শ্রমিকের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে বা আইনগত সহায়তার প্রয়োজন হলে বোর্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের সহায়তা চাওয়া যায়।

বোর্ডের প্রকাশিত সেবা-তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রবাসী কল্যাণ শাখা, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস (DEMO) অথবা সরাসরি বোর্ডে আবেদন করতে পারেন। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হয়।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড

ওয়েবসাইট: wewb.gov.bd

৫. প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

বিদেশে বেতনসংক্রান্ত বিরোধ, নিয়োগকর্তার অনিয়ম কিংবা রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণার শিকার হলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ জানানো যায়।

মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে অনলাইন অভিযোগ জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

ওয়েবসাইট: probashi.gov.bd

এ ছাড়া ২০২৬ সালের ২ জুন মন্ত্রণালয় প্রবাসীদের সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে একটি অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল গঠনের তথ্য প্রকাশ করে। ওই ঘোষণায় অভিযোগ পাঠানোর জন্য দুটি ই-মেইল ঠিকানাও দেওয়া হয়:

minister@probashi.gov.bd

minister.expat@gmail.com

অভিযোগ পাঠানোর সময় নিজের পরিচয়, কর্মস্থল, বকেয়া বেতনের পরিমাণ এবং ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সংযুক্ত করা উচিত।

৬. বিএমইটি (BMET)

বিদেশে যাওয়ার আগে কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হলে কিংবা বিদেশে পাঠানোর পর চাকরির চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা না পেলে বিএমইটির কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন।

বিএমইটি অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারে।

ওয়েবসাইট: bmet.gov.bd

তবে বিদেশি নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে বকেয়া বেতনের সরাসরি দাবি আদায়ের প্রধান কর্তৃপক্ষ সাধারণত কর্মরত দেশের শ্রম দপ্তর। বিএমইটির অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রম কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ দূতাবাসেও যোগাযোগ করা উচিত।

৭. প্রয়োজন হলে স্থানীয় আদালত বা আইনগত কর্তৃপক্ষ

নিয়োগকর্তা অভিযোগের পরও বেতন পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রম আদালত, শ্রম বিরোধ নিষ্পত্তি কর্তৃপক্ষ অথবা আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

কোনো কোনো দেশে শ্রম দপ্তরের মধ্যস্থতায় প্রথমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। সমাধান না হলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে হয়।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনজীবী, দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং অথবা অনুমোদিত আইনি সহায়তা সংস্থার পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বকেয়া বেতন আদায়ের জন্য যেসব প্রমাণ সংগ্রহ করবেন
শুধু মৌখিক অভিযোগ করলেই অনেক সময় সমস্যার সমাধান হয় না। নিয়োগকর্তার কাছে কত টাকা পাওনা রয়েছে, কত মাসের বেতন দেওয়া হয়নি এবং কী চুক্তি হয়েছিল—এসব প্রমাণ থাকা জরুরি।

  • অভিযোগ করার আগে নিচের কাগজপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করুন:
  • পাসপোর্টের পরিচয়সংবলিত পাতার কপি।
  • কাজের ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের কপি।
  • নিয়োগপত্র ও স্বাক্ষর করা চাকরির চুক্তি।
  • বেতন প্রদানের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
  • বেতন স্লিপ বা পে-স্লিপ।
  • নিয়োগকর্তার সঙ্গে মেসেজ, ই-মেইল ও যোগাযোগের প্রমাণ।
  • কত মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে তার হিসাব।
  • প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তার তথ্য।
  • সম্ভব হলে এসব নথির ডিজিটাল কপি নিজের কাছে এবং বাংলাদেশে পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্যের কাছেও সংরক্ষণ করুন।

কোন দেশে বেতন না পেলে কোথায় যোগাযোগ করবেন?

যোগাযোগ
যোগাযোগ

দ্রষ্টব্য: কর্মস্থল, ভিসার ধরন ও চাকরির ক্যাটাগরি অনুযায়ী অভিযোগ গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ ভিন্ন হতে পারে। সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ওয়েবসাইট বা বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সঠিক অভিযোগের পদ্ধতি জেনে নিন।

বেতন না পেলে যেসব ভুল করবেন না

  • শুধু নিয়োগকর্তার মৌখিক আশ্বাসে দিনের পর দিন অপেক্ষা করবেন না।
  • বেতন পাওয়ার প্রমাণ ছাড়া কোনো কাগজে বেতন বুঝে পাওয়ার স্বীকারোক্তি দেবেন না।
  • না বুঝে কোনো নতুন চুক্তি বা পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করবেন না।
  • নিজের পাসপোর্ট, ভিসা ও চুক্তিপত্রের কপি হারিয়ে ফেলবেন না।
  • অভিযোগ জানানোর কারণে নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হলে একা নিয়োগকর্তার মুখোমুখি হবেন না।
  • চাকরি ছেড়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী অনুমতি ও প্রক্রিয়া জেনে নিন।
পরিবারের সদস্যরা কীভাবে সাহায্য করতে পারবেন?

অনেক সময় বিদেশে কর্মরত শ্রমিক সরাসরি অভিযোগ করতে পারেন না। নিয়োগকর্তার ভয়, ভাষাগত সমস্যা কিংবা যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

পরিবারের সদস্যরা যা করতে পারেন:

  • প্রবাসীর কাছ থেকে চুক্তিপত্র ও বেতনের তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।
  • প্রবাসবন্ধু কল সেন্টার ১৬১৩৫-এ যোগাযোগ করতে পারেন।
  • ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন।
  • সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
  • প্রয়োজনীয় প্রমাণ ও যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করতে পারেন।

বিদেশে কাজ করতে যাওয়া একজন বাংলাদেশি শ্রমিকের বেতন পাওয়া কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি তাঁর শ্রমের ন্যায্য পাওনা। নিয়োগকর্তা বেতন আটকে রাখলে ভয় পেয়ে চুপ থাকা উচিত নয়।

তবে অভিযোগ করার আগে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রম আইন অনুযায়ী সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।

প্রবাসীদের মনে রাখতে হবে, বেতন না পেলে প্রথমে কর্মরত দেশের শ্রম দপ্তর এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের সহায়তা নিতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রবাসবন্ধু কল সেন্টার, বিএমইটি ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।

আপনার প্রাপ্য বেতন আদায়ের চেষ্টা করুন, নিজের অধিকার সম্পর্কে জানুন এবং কোনো সমস্যায় একা না থেকে সরকারি সহায়তা নিন।

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button