নতুন করে যুদ্ধ নয়, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি চায় চীন
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এড়াতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বেইজিং

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়া ঠেকানোকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে চীন। একই সঙ্গে অঞ্চলটির দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করেছে বেইজিং।
আজ বুধবার ( ০৪ অক্টোবর ) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সংঘাত শুরু হওয়া ঠেকানোই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কারণ, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।’
তিনি জানান, বিরোধ নিষ্পত্তিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনায় সমর্থন দেবে চীন। পাশাপাশি ইয়েমেন সংকটের রাজনৈতিক সমাধান এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি উপযুক্ত ও সমন্বিত সমাধান খুঁজে পেতেও কাজ করবে বেইজিং।
ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার চীন চলতি সপ্তাহের সোমবার বেইজিংয়ে ইরান, ওমান ও সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানানো হয়।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মুসায়েদ বিন মোহাম্মদ আল-আইবান এবং ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপসচিব আলী বাঘেরি কানির সঙ্গে পৃথক বৈঠকে নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ‘যুক্তিবোধের চেতনা’ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
এদিকে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চলতি সপ্তাহে বেইজিংয়ে ওমানের সুলতানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যকে বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার ‘কুস্তির ময়দান’ হয়ে ওঠার বিষয়ে সতর্ক করেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, চলতি মাসের শেষ দিকে দেশটির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত ইরান, ওমান ও সৌদি আরব সফর করবেন। শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যেই এ ধারাবাহিক কূটনৈতিক সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধের হুমকি দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের আট মাসের সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে বেইজিং।
সূত্র: এএফপি



