দেশে আসতে কি পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা আনতে পারবেন

বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সময় প্রবাসী বাংলাদেশি, পর্যটক কিংবা অন্য যাত্রীদের সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা থাকাটাই স্বাভাবিক। কেউ বিদেশে উপার্জিত অর্থ সঙ্গে নিয়ে ফেরেন, আবার কেউ ভ্রমণের জন্য নেওয়া অব্যবহৃত ডলার বা অন্য মুদ্রা দেশে নিয়ে আসেন।
তবে বিমানবন্দরে কত পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আনা যাবে, কত টাকা পর্যন্ত ঘোষণা দিতে হবে না এবং অতিরিক্ত অর্থ থাকলে কী করতে হবে এসব বিষয়ে অনেকেরই স্পষ্ট কোন ধারণা নেই।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৬ সালের ১৩ আগস্ট জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন যাত্রী বাংলাদেশে প্রবেশের সময় যেকোনো পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আনতে পারবেন।
তবে সঙ্গে আনা বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ ১০ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণের বেশি হলে শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে নির্ধারিত ফরমে ঘোষণা দিতে হবে।
অর্থাৎ, বৈদেশিক মুদ্রা আনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা নেই; তবে নির্ধারিত সীমার বেশি হলে ঘোষণা বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন আগত যাত্রী সর্বোচ্চ ১০ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ঘোষণা ছাড়াই বাংলাদেশে আনতে পারবেন।
এই সীমা মার্কিন ডলারের পাশাপাশি পাউন্ড, ইউরো, সৌদি রিয়ালসহ অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অন্য মুদ্রার ক্ষেত্রে ডলারের সমপরিমাণ মূল্য বিবেচনা করা হবে।
তবে সঙ্গে আনা বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ ১০ হাজার ডলারের বেশি হলে পুরো অর্থের বিবরণ শুল্ক কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। এ জন্য এফএমজে (FMJ) বা Foreign Exchange Declaration Form পূরণ করে জমা দিতে হয়।
১০ হাজার ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্গে থাকলে বিমানবন্দরে শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে তা ঘোষণা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এফএমজে ফরমে যাত্রীর নাম, পাসপোর্ট নম্বর, আগমনের তারিখ, ফ্লাইট নম্বর এবং সঙ্গে আনা বৈদেশিক মুদ্রার ধরন ও পরিমাণ উল্লেখ করতে হয়।
ফরমে নগদ বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি ড্রাফট, পে-অর্ডার ও ট্রাভেলার্স চেকের মতো হস্তান্তরযোগ্য আর্থিক দলিলের তথ্যও উল্লেখ করার ব্যবস্থা রয়েছে।
ঘোষণার পর শুল্ক কর্মকর্তার কাছ থেকে স্বাক্ষর ও অনুমোদনসহ ফরমের যাত্রীর কপি সংগ্রহ করে রাখা উচিত। ভবিষ্যতে অর্থের বৈধতা বা পুনরায় বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজন হলে এই নথি কাজে লাগতে পারে।
আরও পড়ুনঃ বিদেশ থেকে দেশে ফিরলে কতটি মোবাইল ও ল্যাপটপ আনতে পারবেন প্রবাসীরা?
এ ক্ষেত্রে যাত্রী বাংলাদেশে বসবাস করেন, নাকি প্রবাসে বসবাসকারী অনাবাসী বাংলাদেশি তা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশে বসবাসকারী কোনো বাংলাদেশি ১০ হাজার ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে ফিরলে অতিরিক্ত অর্থ দেশে ফেরার ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদিত ব্যাংকের মাধ্যমে নগদায়ন অথবা উপযুক্ত বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবে জমা করতে হবে।

অন্যদিকে, অনাবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ফেরার পর যেকোনো সময় সঙ্গে আনা অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন অথবা বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবে জমা করতে পারবেন।
বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ঘোষণা দিয়ে আনা সম্পূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রা অথবা ঘোষণা ছাড়া আনা সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার বাংলাদেশ ছাড়ার সময় সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
১০ হাজার ডলার পর্যন্ত ঘোষণা ছাড়া আনা অর্থ বাংলাদেশে রাখা এবং পরবর্তী সময়ে বিদেশে যাওয়ার সময় সঙ্গে নেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে পাসপোর্ট বা বিমানের টিকিটে আলাদা অনুমোদন বা এনডোর্সমেন্টের প্রয়োজন হয় না বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।
তবে ১০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ঘোষণা দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে সেই অর্থের ব্যবহার বা জমার নিয়ম মেনে চলা জরুরি। বিশেষ করে দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ।
বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি বাংলাদেশি টাকার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন আগত বা বহির্গামী যাত্রী বাংলাদেশি মুদ্রায় সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা সঙ্গে আনতে বা নিয়ে যেতে পারবেন।
অর্থাৎ, বিদেশ থেকে ফেরার সময় বৈদেশিক মুদ্রা আনার ক্ষেত্রে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত ঘোষণা ছাড়ের সুবিধা থাকলেও বাংলাদেশি টাকার ক্ষেত্রে সীমা ১০ হাজার টাকা।
বিদেশ থেকে আনা বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের শাখা অথবা লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে লেনদেন করতে হবে। অননুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় করা উচিত নয়।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিমানবন্দরে অনুমোদিত ব্যাংকের বুথের মাধ্যমে নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব বা নন-রেসিডেন্ট টাকার হিসাবে অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগও পেতে পারেন।
বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সময় সঙ্গে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ আগে হিসাব করে নিন। ১০ হাজার ডলারের বেশি হলে বিমানবন্দরে শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে এফএমজে ফরমে ঘোষণা দিন। ঘোষণার অনুমোদিত কপি নিজের কাছে সংরক্ষণ করুন।
এ ছাড়া দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি হলে অতিরিক্ত অর্থ ৩০ দিনের মধ্যে নগদায়ন বা উপযুক্ত হিসাবে জমা দেওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখুন। প্রবাসে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে অর্থ জমা বা নগদায়নের সময়সীমা আলাদা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বৈদেশিক মুদ্রা আনার ক্ষেত্রে ঘোষণা না দেওয়ার কারণে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই নিয়ম জেনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা ভালো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রা আনার ক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হলো—১০ হাজার ডলার পর্যন্ত ঘোষণা ছাড়, এর বেশি হলে ঘোষণা বাধ্যতামূলক। সঠিক নিয়ম মেনে চললে বিদেশ থেকে অর্থ নিয়ে দেশে ফেরার সময় অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব।



