প্রবাস

জমি বিক্রি, ঋণের বোঝা—দালালের প্রতারণায় বিদেশযাত্রার স্বপ্নই এখন দুঃস্বপ্ন!

দালালের খপ্পরে নিঃস্ব প্রবাসী

বিদেশে গিয়ে ভালো আয় করবেন, পরিবারের অভাব ঘোচাবেন, ঋণ পরিশোধ করে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবেন—এমন স্বপ্ন নিয়েই প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ পাড়ি জমান বিদেশে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথেই অনেকের জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। কেউ জমি বিক্রি করেন, কেউ বসতভিটা বন্ধক রাখেন, আবার কেউ উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে তুলে দেন দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে। বিনিময়ে মেলে বিদেশে চাকরির প্রতিশ্রুতি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কারও হাতে আসে ভুয়া ভিসা, কারও চাকরির চুক্তি বদলে যায়, আবার কেউ টাকা দিয়েও বিদেশে যেতে পারেন না।

বিদেশে যাওয়ার আগেই নিঃস্ব হয়ে পড়েন অনেক প্রবাসপ্রত্যাশী। আর যারা শেষ পর্যন্ত বিদেশে পৌঁছান, তাঁদের কারও কারও সামনে অপেক্ষা করে প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবতার বড় ব্যবধান। প্রশ্ন উঠছে—বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন কেন এত ব্যয়বহুল? কেন নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাঝখানে তৈরি হচ্ছে দালালনির্ভরতা? আর এত আইন ও নজরদারির পরও প্রতারণার ঝুঁকি কমছে না কেন?

বিদেশযাত্রার আগে ঋণের বোঝা

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, একজন বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীর বিদেশে যেতে গড়ে খরচ হয় ৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। বিপরীতে তাঁদের গড় মাসিক আয় ৪২ হাজার ৫৯৯ টাকা। অর্থাৎ বিদেশযাত্রায় করা ব্যয় তুলতে একজন কর্মীর গড়ে প্রায় ১০ দশমিক ৯ মাস সময় লাগে।

এই হিসাবই বলে দেয়, বিদেশে যাওয়ার শুরুতেই একজন কর্মীর ওপর কত বড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়। আর বাস্তবে অনেক কর্মী নির্ধারিত খরচের চেয়েও বেশি টাকা দেন। কেউ দালালের কথায় অতিরিক্ত অর্থ দেন, কেউ ভিসা ও চাকরির নিশ্চয়তার নামে লাখ লাখ টাকা তুলে দেন মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে।

২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় এক অভিবাসনবিষয়ক সংলাপে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নূরও স্বীকার করেন, বিদেশে যাওয়ার খরচ তুলতে অভিবাসী কর্মীদের প্রায় ১৪ মাস সময় লাগে। একই অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্যে ১ হাজার ৪১৪টি অভিযোগের মধ্যে ৭৮৫টি নিষ্পত্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের ৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ফেরতের কথা জানানো হয়।

এখানে বিবিএসের গড় ব্যয় ও সংলাপে উপস্থাপিত ১৪ মাসের হিসাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কারণ দুটি তথ্যের সময়কাল, নমুনা ও হিসাবের পদ্ধতি এক নয়। তবে উভয় তথ্যই বিদেশযাত্রার আর্থিক চাপের বিষয়টি সামনে আনে।

দালালচক্রের ফাঁদ কীভাবে তৈরি হয়?

বিদেশে চাকরি পাওয়ার প্রক্রিয়ায় সাধারণত বিদেশি নিয়োগকর্তার চাহিদাপত্র, ভিসা, কর্মানুমতি, মেডিকেল পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি ছাড়পত্রের মতো একাধিক ধাপ থাকে। অনেক প্রার্থী এসব প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের বিদেশি কোম্পানির প্রতিনিধি, এজেন্সির লোক কিংবা প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারী পরিচয় দিয়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

প্রথমে আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। এরপর দ্রুত ভিসা, নিশ্চিত নিয়োগ কিংবা কম সময়ে বিদেশ পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। একপর্যায়ে পাসপোর্ট ও টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর শুরু হয় নতুন অজুহাত—কখনো ভিসা আটকে গেছে, কখনো মেডিকেল বা প্রসেসিং খরচ বেড়েছে, আবার কখনো নিয়োগকর্তার অনুমোদন আসেনি।

কিছু ক্ষেত্রে ভুয়া ভিসা, জাল নিয়োগপত্র কিংবা অন্যের নামে ইস্যু করা কাগজপত্র দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। বিদেশে পৌঁছানোর পর দেখা যায়, যে বেতনের কথা বলা হয়েছিল তা পাওয়া যাচ্ছে না; কাজের ধরনও ভিন্ন। এমনকি কোনো কোনো কর্মী প্রতিশ্রুত চাকরি না পেয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।

কেন দালালের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন প্রবাসপ্রত্যাশীরা?

এর পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত কারণ রয়েছে।

প্রথমত, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়: বৈধ পথে বিদেশে যেতে অনেক ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হয়। নির্ধারিত খরচের বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হলে কর্মীরা বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে অনিবন্ধিত মধ্যস্থতাকারীর ফাঁদে পড়েন।

দ্বিতীয়ত, তথ্যের অভাব: কোন এজেন্সির লাইসেন্স আছে, কোন ভিসা বৈধ, চাকরির চুক্তিতে কী লেখা রয়েছে—এসব বিষয়ে অনেক কর্মীর পর্যাপ্ত ধারণা থাকে না।

তৃতীয়ত, মধ্যস্বত্বভোগীর আধিপত্য: গ্রাম বা উপজেলা পর্যায়ের অনেক প্রার্থী সরাসরি ঢাকার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। ফলে স্থানীয় পরিচিত ব্যক্তি বা দালালের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

চতুর্থত, দ্রুত বিদেশ যাওয়ার চাপ: পরিবারের ঋণ, বেকারত্ব ও আর্থিক সংকটের কারণে অনেকেই যাচাই-বাছাই না করেই সিদ্ধান্ত নেন। প্রতারকরা এই দুর্বলতাকে কাজে লাগায়।

পঞ্চমত, জবাবদিহির ঘাটতি: টাকা দেওয়ার পর অনেক কর্মী রসিদ বা লিখিত চুক্তি সংগ্রহ করেন না। ফলে প্রতারণার শিকার হলেও অপরাধীর বিরুদ্ধে প্রমাণ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে।

পরিসংখ্যানে প্রতারণার চিত্র

বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ নতুন নয়। বিএমইটির তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ২ হাজার ২১৩টি অভিযোগ জমা পড়ে। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৩৮০টি। ২০২২ সালে ১ হাজার ২৪০টি এবং ২০২১ সালে ৫৮২টি অভিযোগ জমা পড়েছিল।

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে বিএমইটির তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, ২০২৫ সালে কর্তৃপক্ষ ২ হাজার ৫৪টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের প্রায় ৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা ফেরত দিতে সক্ষম হয়। ২০২৪ সালে নিষ্পত্তি করা হয়েছিল ১ হাজার ৭৫৫টি অভিযোগ এবং ফেরত দেওয়া হয়েছিল ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

তবে অভিযোগের সংখ্যা দিয়ে প্রতারণার প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি বোঝা যায় না। অনেক কর্মী বিদেশে অবস্থান, তথ্যের অভাব, আইনি জটিলতা কিংবা প্রতিশোধের আশঙ্কায় অভিযোগ করেন না। আবার অনেক অভিযোগ স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হওয়ায় সরকারি হিসাবে আসে না।

এজেন্সির সংখ্যা বাড়লেও নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর?

বাংলাদেশে বিদেশে কর্মী পাঠানোর জন্য লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে। কিন্তু শুধু লাইসেন্স থাকলেই কোনো প্রতিষ্ঠান যে প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছভাবে কাজ করছে, তা নিশ্চিত নয়।

২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশে কর্মী পাঠানোর জন্য নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর গ্রেডিং ব্যবস্থা এখনো চালু হয়নি। ফলে বিদেশে যেতে আগ্রহী কর্মীরা টাকা দেওয়ার আগে কোন এজেন্সির অতীত রেকর্ড ভালো, কার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে কিংবা কে নিয়ম মেনে কাজ করছে—তা সহজে যাচাই করতে পারছেন না।

একই সংলাপে জানানো হয়, এজেন্সিগুলোর সাব-এজেন্ট বা প্রতিনিধিদের তথ্য জমা দেওয়ার সফটওয়্যারও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ফলে কে বৈধ প্রতিনিধি আর কে পরিচয়ের আড়ালে টাকা সংগ্রহ করছে, তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশে অভিবাসন ব্যয় এশিয়ার কয়েকটি দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সংস্থাটি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, শ্রমিকের ওপর অযৌক্তিক খরচের বোঝা কমানো এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

আইন আছে, শাস্তির বিধানও আছে

বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণা ঠেকাতে বাংলাদেশে রয়েছে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩’। এই আইনের ৩১ ধারায় মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে অর্থ গ্রহণ, অতিরিক্ত বেতন-ভাতার প্রলোভন দেখানো কিংবা অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র বেআইনিভাবে আটকে রাখার মতো অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে।

এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং অন্যূন এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে। আইনটির ৩৫ ধারায় অনিবন্ধিত সাব-এজেন্ট হিসেবে কাজ করার জন্যও শাস্তির বিধান রয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আইনে শাস্তির বিধান থাকলেও মাঠপর্যায়ে তা কতটা কার্যকর হচ্ছে? প্রতারক মধ্যস্থতাকারীদের চিহ্নিত করা, তাঁদের অর্থের লেনদেন অনুসরণ করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা কতটা দ্রুত হচ্ছে—এসব বিষয়েও জোরালো নজরদারি প্রয়োজন।

বিদেশযাত্রার আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

বিদেশে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি—

১. যে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যাচ্ছেন, তার বৈধ লাইসেন্স ও বর্তমান অবস্থা যাচাই করুন।

২. এজেন্সির অনুমোদিত প্রতিনিধি ছাড়া অন্য কারও হাতে টাকা দেবেন না। সাব-এজেন্ট হলে তার নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাই করুন।

৩. চাকরির চুক্তিপত্রে বেতন, কাজের ধরন, কর্মঘণ্টা, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা স্পষ্টভাবে লিখিত আছে কি না দেখুন।

৪. ভিসা ও নিয়োগপত্রের সত্যতা যাচাই না করে কোনো অর্থ পরিশোধ করবেন না।

৫. প্রতিটি লেনদেনের রসিদ, ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণ এবং চুক্তিপত্র সংরক্ষণ করুন।

৬. শুধু মুখের আশ্বাসে জমি বিক্রি বা ঋণ নিয়ে টাকা দেবেন না।

৭. বিদেশে যাওয়ার আগে বিএমইটির প্রয়োজনীয় নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ ও ছাড়পত্র সম্পন্ন করুন।

প্রতারণার শিকার হলে কোথায় অভিযোগ করবেন?

বিদেশে যাওয়ার নামে প্রতারণার শিকার হলে নীরব না থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অভিযোগ করা জরুরি। বিএমইটির কাছে অভিযোগ করা যায়। অনলাইনে অভিযোগের জন্য রয়েছে ovijogbmet.org। বিদেশে অবস্থান করলে সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশের দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের সহায়তা নেওয়া যায়। প্রয়োজনে পুলিশ ও আইনগত সহায়তাও নিতে হবে।

মাইগ্র্যান্ট রিসোর্স সেন্টার (এমআরসি) বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগের সঙ্গে টাকা দেওয়ার রসিদ, চুক্তিপত্র, পাসপোর্ট, ভিসা, মেসেজ ও অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগকারী বিদেশে থাকলেও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় তাঁর পক্ষে অভিযোগ পরিচালনা করতে পারেন।

সমাধান কোথায়?

বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সুপারিশ থেকে স্পষ্ট, শুধু অভিযান বা শাস্তি দিয়ে অভিবাসন খাতের প্রতারণা বন্ধ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি।

প্রথমত, সব রিক্রুটিং এজেন্সির কার্যক্রম, অভিযোগের ইতিহাস ও কর্মী পাঠানোর রেকর্ড প্রকাশ্যে যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সাব-এজেন্টদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে তাঁদের পরিচয় ও লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। তৃতীয়ত, কর্মীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ ছাড়া বিদেশি নিয়োগকর্তার চাহিদাপত্র ও ভিসা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া ডিজিটাল করতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল—বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও কম খরচের নিয়োগের সুযোগ বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।

 

বিদেশে কর্মসংস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতি ও লাখো পরিবারের জীবনের সঙ্গে জড়িত। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কিন্তু সেই রেমিট্যান্সের পেছনে থাকা মানুষের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা না গেলে বিদেশযাত্রার স্বপ্ন অনেক পরিবারের জন্য আর্থিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

একজন কর্মী বিদেশে যাওয়ার আগে জমি বিক্রি করেন, ঋণ নেন, পরিবারের শেষ সম্বল তুলে দেন। অথচ প্রতারণার শিকার হলে সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে না। তাই বিদেশে কর্মী পাঠানোর ব্যবসাকে শুধু বাণিজ্যিক কার্যক্রম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

প্রশ্ন তাই শুধু দালাল কে, তা শনাক্ত করার নয়; প্রশ্ন হলো—একজন সাধারণ মানুষ যেন দালালের কাছে না গিয়ে নিরাপদে, কম খরচে ও নিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশে কাজের সুযোগ পান, সেই ব্যবস্থা কত দ্রুত নিশ্চিত করা যাবে?

বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন যেন আর কোনো পরিবারের নিঃস্ব হওয়ার কারণ না হয়—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button