মরিশাসে ভয়াবহ কন্টেইনার দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ৩ বাংলাদেশি শ্রমিকের

মরিশাসে কর্মস্থলে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩ বাংলাদেশি শ্রমিক। দেশটির প্লেন-দে-পাপাই এলাকার একটি কার্গো কন্টেইনার ইয়ার্ডে ভারী কাঠের বাক্সের নিচে চাপা পড়ে তাঁদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দুর্ঘটনার কারণ ও কর্মস্থলের নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মরিশাসের শ্রম মন্ত্রণালয়।
গত বুধবার (৪ নভেম্বর) ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির শ্রমমন্ত্রী রেজা উতিম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ ও উদ্ধারকারী সূত্রের বরাতে জানা গেছে, একটি কার্গো কন্টেইনার ইয়ার্ডে কাজ করার সময় শ্রমিকদের ওপর ভারী কাঠের বাক্স পড়ে। এতে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৩ বাংলাদেশি। খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তাঁরা শ্রমিকদের উদ্ধার করলেও জরুরি চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত তিনজন হলেন-মোহাম্মদ মিরাজ হোসেন (৩৬), হোসেন মো. বিলাল (৩৭) ও সিকদার জোবায়েদ ইসলাম (২৫)। তাঁরা সবাই প্লেন-দে-পাপাই এলাকার একটি অ্যালুমিনিয়াম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি কর্মস্থলে নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে। শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে।
আরও পড়ুনঃ যুদ্ধবিরতিতে সৌদির কাছে ৬ লাখ কোটি টাকা দাবি হুতিদের!
এদিকে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী রেজা উতিম। তিনি জানিয়েছেন, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে স্বজনদের ইচ্ছা অনুযায়ী মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও প্রতিষ্ঠানটিকে করতে হবে।
তিন বাংলাদেশি শ্রমিকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রবাসী কর্মীদের কর্মস্থলের নিরাপত্তা এবং নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। তদন্তের ফলাফলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।



