নির্বাচন অফিসে দরজা বন্ধ করে প্রবাসীকে মারধর

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কাজে গিয়ে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে সৌদি আরবপ্রবাসী এক যুবককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে নির্বাচন কর্মকর্তা ও কার্যালয়ের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলামের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারী যুবকের নাম রবিউল ইসলাম রবিন। তিনি আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কক্ষে কয়েকজন কর্মচারী রবিউল ইসলামকে জাপটে ধরে রেখেছেন। এ সময় কয়েকজনকে তাকে একের পর এক আঘাত করতে দেখা যায়। এমনকি একজনকে তার গলা চেপে ধরতেও দেখা গেছে। একপর্যায়ে কার্যালয়ের ভেতরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে কর্মচারীরা তাকে টেনেহিঁচড়ে কক্ষের বাইরে নিয়ে যান।
রবিউল ইসলামের অভিযোগ, তার বোন সুমাইয়া আক্তার স্বপ্নার জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির জন্য তিনি বেশ কয়েকবার উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গেছেন। প্রতিবারই বিভিন্ন অজুহাতে তাকে হয়রানি করা হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার অফিসের এক কর্মচারী তার কাছে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা দিলে কাজ করে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়। তবে ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে একটি কক্ষে দরজা বন্ধ করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম। তার দাবি, রবিউল ইসলামের জমা দেওয়া কাগজপত্রে ব্যাপক অসংগতি রয়েছে। তার বাবার দুটি বিয়ে থাকলেও ওয়ারিশ সনদে সেই তথ্য গোপন করা হয়েছে। এ ছাড়া তার বোন স্বপ্নার জন্ম ২০০২ সালে হলেও সনদে ১৯৭৫ সাল উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব কাগজপত্র সংশোধন করে আনতে বলা হয়েছিল জানিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, ভুল বোঝাবুঝির একপর্যায়ে কর্মচারীরা তাকে চেয়ারে বসতে বললে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভিডিওতে দেখা যাওয়া ঘটনাটি সেই উত্তেজনারই চিত্র। তবে তাকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির জন্য ওই যুবক নির্বাচন কার্যালয়ে এসেছিলেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একদিকে প্রবাসীর মারধরের অভিযোগ, অন্যদিকে কাগজপত্রে অসংগতির দাবি—দুই পক্ষের বক্তব্য ঘিরে এখন তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে ঘটনাটি।



