মালয়েশিয়ায় একসঙ্গে ৩১২ বিদেশির কারাদণ্ড,বিপাকে বাংলাদেশিরাও

মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশিসহ ৭ দেশের ৩১২ জন বিদেশি নাগরিককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির বিশেষ দায়রা আদালত।
অভিযুক্তদের মধ্যে অধিকাংশের বিরুদ্ধে বৈধ পাসপোর্ট বা দেশটিতে অবস্থানের অনুমতিপত্র না থাকা এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জোহর রাজ্য অভিবাসন বিভাগের এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজ্যের পেকেনানাস অভিবাসন আটককেন্দ্রে স্থাপিত বিশেষ আদালতে তাদের বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরকে সঙ্গে নিয়ে প্রসিকিউশন পরিচালনা করে জোহর রাজ্য অভিবাসন বিভাগ।
আদালতে হাজির করা বিদেশি নাগরিকদের বয়স ছিল ১৯ থেকে ৫৬ বছরের মধ্যে। তারা বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও চীনের নাগরিক।
অভিবাসন বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩১২ জনের মধ্যে ১৯৬ জনের বিরুদ্ধে বৈধ পাসপোর্ট অথবা মালয়েশিয়ায় অবস্থানের অনুমতিপত্র না থাকার অভিযোগে দেশটির ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনের ৬(১)(সি) ধারায় মামলা করা হয়। আদালতে অভিযুক্তরা নিজেদের দোষ স্বীকার করলে প্রত্যেককে গ্রেপ্তারের দিন থেকে কার্যকর চার মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ছাড়া অনুমোদিত সময়সীমা অতিক্রম করে মালয়েশিয়ায় অবস্থানের অভিযোগে আরও ১১০ জনের বিরুদ্ধে একই আইনের ১৫(১)(সি) ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। তারাও আদালতে দোষ স্বীকার করেন। পরে প্রত্যেককে গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে কার্যকর ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, একটি প্রতিষ্ঠানে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ইন্দোনেশিয়ার এক নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইনের ৫৫ই(১) ধারায় মামলা করা হয়। আদালতে তিনি দোষ স্বীকার করলে তাকেও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ বিদেশের কারাগারে প্রবাসী, পাশে দাঁড়ায় কি বাংলাদেশ দূতাবাস?
তবে বৈধ পাসপোর্ট বা অবস্থানের অনুমতিপত্র না থাকার অভিযোগে একই আইনের ৬(১)(সি) ধারায় অভিযুক্ত বাংলাদেশের এক পুরুষ নাগরিক ও মিয়ানমারের আরেক নাগরিক নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তাদের মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র হস্তান্তর ও পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের জন্য আদালত পৃথক তারিখ নির্ধারণ করেছেন। বাংলাদেশি নাগরিকের মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৯ নভেম্বর এবং মিয়ানমারের নাগরিকের শুনানি ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আদালতের কার্যক্রম সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাখতে জোহর রাজ্য অভিবাসন বিভাগের আইন প্রয়োগকারী শাখার পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।
জোহর রাজ্য অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থিতি এবং তাদের মাধ্যমে সংঘটিত অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বিভাগটির ভাষ্য, এ ধরনের ধারাবাহিক বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জোহর রাজ্যে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান তুলে ধরা হচ্ছে।




একটি মন্তব্য