আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেই এআই নিয়ন্ত্রণে একের পর এক আইন আনতে চায় ডেমোক্র্যাটরা

এআই প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ, ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং প্রযুক্তির সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ বাড়ছে

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ও ডেটা সেন্টার উন্নয়নে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপে একের পর এক নতুন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। আগামী জানুয়ারিতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এসব আইন উত্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলটির আইনপ্রণেতারা।

আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এআই প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ, ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং প্রযুক্তির সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের সুরক্ষা, এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং প্রযুক্তির কারণে ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির দায় নির্ধারণে নতুন আইন আনতে চায় ডেমোক্র্যাটরা।

পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, ডেটা সেন্টারের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়া ঠেকানো, উন্নত এআই মডেলগুলো স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরীক্ষার আওতায় আনা এবং এআইয়ের কারণে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর দায়বদ্ধতা স্পষ্ট করা।

নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট সিনেটর চাক শুমার, যিনি আগামীতে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হওয়ার কথা রয়েছে, বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের এক অনুষ্ঠানে বলেন, ডেটা সেন্টারের দ্রুত সম্প্রসারণের কারণে বিদ্যুতের বাড়তি ব্যয় থেকে ভোক্তাদের সুরক্ষা দেওয়া আগামী বছরের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে।

এ ছাড়া ম্যাসাচুসেটসের প্রতিনিধি লরি ট্রাহান এআই মডেলগুলোর নিরাপত্তা যাচাইয়ে স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে এআই ব্যবস্থার কারণে ক্ষতিকর কিছু ঘটলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে আইনি দায়ের আওতায় আনার বিষয়েও আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি জো লফগ্রেন জানিয়েছেন, এআই প্রযুক্তিতে উদ্ভাবন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দায়িত্বশীল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দেবে ডেমোক্র্যাটরা।

তবে এসব আইন বাস্তবায়নে বড় বাধা হতে পারেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এআই প্রযুক্তির জন্য বাধ্যতামূলক বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব তিনি বারবার নাকচ করেছেন। ফলে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটির নিয়ন্ত্রণ পেলেও আইন পাসের ক্ষেত্রে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারেন।

এদিকে, এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের উদ্বেগও বাড়ছে। গত অক্টোবরে প্রকাশিত রয়টার্সের এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন ভোটার মনে করেন, এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন ও কংগ্রেস যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। প্রযুক্তিটির ওপর নতুন সরকারি নিয়ন্ত্রণ চান তাঁরা।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নতুন ক্ষমতা ব্যবহার করে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, মেটা, গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট এবং স্পেসএক্সের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়াতে চান।

বিশেষ করে এসব প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং এআই টুলের মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃত বা ক্ষতিকর কার্যক্রমের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান দলটির আইনপ্রণেতারা।

বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের পাশাপাশি এর নিরাপত্তা, ভোক্তা অধিকার ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নতুন উদ্যোগ এ বিতর্ককে আরও জোরালো করতে পারে।

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button