
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সমাধান করতে চায় বাংলাদেশ। এ জন্য ভারতের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করে সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
গতকাল সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সমাপনী দিনের একটি অধিবেশনে বক্তব্য দেন হুমায়ুন কবির। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে দিল্লিতে সফর সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের সচিব ও কর্মকর্তাদের পর্যায়ে সংলাপ এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এসব আলোচনার মধ্য দিয়ে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান করে ইতিবাচক ফল পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ কবে হতে পারে, জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘শীর্ষ পর্যায়ের ডায়ালগ তো হবে যখন ভিজিট হবে। এর আগে অফিসিয়াল লেভেলের ডায়ালগের মাধ্যমে কনক্লুসিভ এনভায়রনমেন্ট করতে হবে। দুই পক্ষেরই এগিয়ে আসতে হবে।’
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে দিল্লিতে অবস্থান করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে খুব বেশি কিছু চাওয়া হচ্ছে না। দিল্লিতে থাকা একজন সন্ত্রাসীকে সংযত করাই বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্যাশা। তাঁর ভাষ্য, ওই ব্যক্তি দিল্লিতে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।
ভারত থেকে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সংযম দেখাচ্ছে উল্লেখ করে ভারত সরকারের কাছ থেকেও একই ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
আঞ্চলিক সহযোগিতায় ভারতকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা কখনো ডায়ালগ ও ডিপ্লোমেসির দরজা বন্ধ করিনি। আমরা ডায়ালগ ও ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে এগিয়ে যাব এবং সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে পৌঁছাব।’
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তিনি আশাবাদী কি না, জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি আশাবাদী, এটা হবে।’
নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের খবর নিতে হলে বাংলাদেশ থেকেই নিতে হবে।’
তিনি আরও জানান, নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তুরস্কে জলবায়ু সম্মেলনে যেতে পারেন।



