
শরৎকাল শেষ হতে এখনো বাকি, শীত আসতে অপেক্ষা করতে হবে আরও প্রায় এক মাস। এর আগেই উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে শীতের আগমনী বার্তা অনুভূত হচ্ছে। ভোরে ঘাসের ওপর জমছে শিশির, চারপাশ ঢেকে যাচ্ছে কুয়াশায়। বইছে হিমেল বাতাস। শুক্রবার সকাল ৯টায় জেলার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রার এই নিম্নমুখী প্রবণতা ও প্রকৃতির পরিবর্তনে শরতের সকালেই শীতের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে উত্তরের জনপদে।
পঞ্চগড়ে ভোরের আলো ফোটার আগেই কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ। মধ্যরাতের পর থেকে ঘাসে জমতে শুরু করছে শিশির। সকালে সূর্যের তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কেটে যাচ্ছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে হিমালয়ের কাছাকাছি অবস্থিত পঞ্চগড়ে দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় আগেভাগে শীত অনুভূত হয়। আবার শীতের বিদায়ও ঘটে দেরিতে। এ কারণে দেশের অন্য অনেক এলাকার তুলনায় এ অঞ্চলে শীতের স্থায়িত্ব বেশি।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর নিষ্ক্রিয়তা এবং বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় রাত থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। কয়েক দিন আগে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে পঞ্চগড়ে বৃষ্টি হয়েছিল। এর প্রভাবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে যায়। পরে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের দিকে ফিরলেও রাতের তাপমাত্রায় তেমন পরিবর্তন হয়নি। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ভোররাতে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। এ সময় অনেককে রাতের মাঝামাঝি থেকে পাখা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সকাল ৯টা পর্যন্ত কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার দিনভর বৃষ্টি এবং শুক্রবার আকাশে ঘন মেঘ থাকায় কুয়াশা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়েছিল।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাঝগ্রাম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা করিম উদ্দীন বলেন, ভোরে ফজরের নামাজ পড়াতে মসজিদে যাওয়ার সময় চারপাশে অনেক কুয়াশা দেখা যায়। তবে নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পরপরই কুয়াশা কমতে শুরু করে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্র নাথ রায় জানান, শুক্রবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জীতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, এখন শরৎকাল চলছে। শীতকাল শুরু হতে আরও প্রায় এক মাস বাকি। হেমন্তের শেষ দিকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। তখন শীতের অনুভূতিও বাড়বে।



