
কলা সহজলভ্য ও পুষ্টিকর ফল। প্রতিদিনের নাশতা কিংবা খাবারের অংশ হিসেবে অনেকেই এটি খেয়ে থাকেন। তবে কলা খাওয়ার আগে খোসা ধুয়ে নেওয়ার কথা সাধারণত খুব একটা ভাবা হয় না। অথচ ফলের বাইরের অংশে মাটি, ময়লা কিংবা জীবাণু থাকতে পারে। খোসা ছাড়ানোর সময় হাতের মাধ্যমে এসব দূষক কলার ভেতরের অংশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই খোসা ছাড়ানোর আগে কলা পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নেওয়া ভালো অভ্যাস।
কীটনাশকের অবশিষ্টাংশের সংস্পর্শ কমাতে
কলা চাষে পোকামাকড় দমনের জন্য কীটনাশক ব্যবহার করা হতে পারে। ফলের খোসায় মাটি, ময়লা কিংবা কীটনাশকের কিছু অবশিষ্টাংশও থাকতে পারে। খোসা ছাড়ানোর আগে কলা ধুয়ে নিলে বাইরের ময়লা এবং কিছু অবশিষ্টাংশ দূর হতে পারে।
খোসা ছাড়ানোর সময় অপরিষ্কার হাতে ফলের ভেতরের অংশ ধরলে বাইরের দূষক সেখানে স্থানান্তরিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কলা খাওয়ার আগে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নেওয়া এবং এরপর হাত পরিষ্কার রাখা উপকারী। তবে শুধু পানি দিয়ে ধুলেই সব ধরনের কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ সম্পূর্ণ দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
জীবাণুর সংস্পর্শ কমাতে
পরিবহন, সংরক্ষণ কিংবা বিভিন্ন মানুষের হাতে নাড়াচাড়ার সময় কলার খোসায় জীবাণু লাগতে পারে। দূষিত হাত বা পৃষ্ঠের সংস্পর্শে আসা ফলের বাইরের অংশে খাদ্যবাহিত রোগের জন্য দায়ী কিছু জীবাণুও থাকতে পারে। খোসা ছাড়ানোর সময় হাত থেকে সেগুলো ফলের ভেতরের অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এ কারণে কলা ছাড়ানোর আগে পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে ধুয়ে নেওয়া এবং হাত পরিষ্কার রাখা ভালো। বিশেষ করে শিশুদের খাওয়ানোর সময় পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। তবে ধুয়ে নিলেই সালমোনেলা বা লিস্টেরিয়ার মতো সব জীবাণু দূর হয়ে যায়, এমন নয়। নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের জন্য ফল পরিষ্কারভাবে রাখা এবং হাত ধোয়ার অভ্যাসও জরুরি।
বাইরের অজানা উপাদানের সংস্পর্শ কমাতে
কলা সংগ্রহ, পরিবহন ও বিক্রির বিভিন্ন পর্যায়ে অনেকের হাতে আসে। ফলে খোসায় ধুলাবালু, ময়লা কিংবা অন্য কোনো দূষক লেগে থাকতে পারে। খোসা ছাড়ানোর আগে ধুয়ে নিলে এসব উপাদানের সংস্পর্শ কমানো সম্ভব।
তবে কলা ধুলে সব ধরনের অ্যালার্জেন দূর হয় বা অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া ঠেকানো যায়, এমন প্রমাণ নেই। কারও নির্দিষ্ট কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে শুধু ফল ধোয়ার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সতর্কতা নেওয়া উচিত।
কলা বেশিদিন ভালো রাখতে কি ধুতে হবে?
কলা ধুয়ে নিলে বেশি দিন সতেজ থাকবে, এমন ধারণা প্রচলিত। কিন্তু সংরক্ষণের আগে কলা ধোয়া তার স্থায়িত্ব বাড়ানোর নির্ভরযোগ্য উপায় নয়। বরং খোসার গায়ে অতিরিক্ত পানি লেগে থাকলে আর্দ্রতা বাড়তে পারে, যা কিছু পরিস্থিতিতে ফল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
কলা পাকতে ইথিলিন নামের একটি প্রাকৃতিক উদ্ভিদ হরমোন ভূমিকা রাখে। খোসা ধুয়ে এই প্রক্রিয়া বন্ধ করা যায় না। কলা ভালো রাখতে শুকনো ও পরিষ্কার জায়গায় রাখা এবং অতিরিক্ত গরম থেকে দূরে রাখা যেতে পারে। ধুতে হলে খাওয়ার ঠিক আগে ধুয়ে নেওয়া ভালো।
কলা খাওয়ার আগে যা মনে রাখবেন: পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে খোসাসহ কলা ধুয়ে নিন। সাবান, ডিটারজেন্ট কিংবা ফল পরিষ্কারের জন্য নয় এমন রাসায়নিক ব্যবহার করবেন না। এরপর পরিষ্কার হাতে খোসা ছাড়িয়ে ফলটি খান। এই সহজ অভ্যাস বাইরের ময়লা ও কিছু দূষকের সংস্পর্শ কমাতে সাহায্য করে।



