অন্য খবর

স্বাস্থ্যকর ভেবে পান করছেন? এসব পানীয়ের ঝুঁকি জানুন

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা কিছু পানীয়কে আমরা স্বাস্থ্যকর কিংবা সতেজ থাকার উপায় হিসেবে বিবেচনা করি। কিন্তু এসব পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি, ক্যাফেইন, ক্যালরি কিংবা অন্যান্য সংযোজনী থাকলে তা স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নিয়মিত বেশি পরিমাণে পান করলে ওজন বৃদ্ধি, রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা কিংবা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই পরিচিত এসব পানীয়ের উপাদান সম্পর্কে জানা এবং পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি।

১. ফ্রুট জুস

ফলের রসকে অনেকেই স্বাস্থ্যকর পানীয় মনে করেন। তবে ফলের রসে প্রাকৃতিক চিনির পাশাপাশি বাড়তি চিনিও থাকতে পারে। বিশেষ করে প্যাকেটজাত জুস কেনার আগে এর উপাদান ও চিনির পরিমাণ দেখে নেওয়া প্রয়োজন। আস্ত ফলের তুলনায় জুসে সাধারণত আঁশ কম থাকে। ফলে অল্প সময়ে বেশি পরিমাণে চিনি গ্রহণ করা সহজ হয়।

জুস পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে। অন্যদিকে, আস্ত ফলের আঁশ পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে। তাই নিয়মিত জুস পান করার বদলে আস্ত ফল খাওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভালো। জুস খেতে চাইলে বাড়তি চিনি ছাড়া তৈরি করা এবং পরিমাণ সীমিত রাখার দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে।

২. এনার্জি ড্রিংকস

দ্রুত চাঙা অনুভব করার জন্য অনেকেই এনার্জি ড্রিংকস পান করেন। এসব পানীয়তে ক্যাফেইন ও চিনি বেশি থাকতে পারে। ক্যাফেইনের কারণে সাময়িকভাবে সতর্কতা বাড়লেও অতিরিক্ত গ্রহণে অস্থিরতা, উদ্বেগ, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বেশি চিনি থাকলে শরীরে ক্যালরি গ্রহণও বেড়ে যায়।

নিয়মিত বা অতিরিক্ত এনার্জি ড্রিংকস পান করা বিশেষ করে ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সতেজ থাকতে পর্যাপ্ত ঘুম, পানি পান এবং সুষম খাবারের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। চা পান করতে চাইলে গ্রিন টি একটি বিকল্প হতে পারে। তবে এতেও ক্যাফেইন থাকে, তাই পরিমাণের বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

৩. আইসড কফি

গরমের দিনে ঠান্ডা কফি বা আইসড কফি অনেকের পছন্দের পানীয়। তবে এতে চিনি, মিষ্টি সিরাপ, ক্রিম কিংবা আইসক্রিম যোগ করা হলে ক্যালরি ও চিনির পরিমাণ অনেক বেড়ে যেতে পারে। নিয়মিত এ ধরনের পানীয় বেশি পরিমাণে পান করলে দৈনিক ক্যালরি গ্রহণ বেড়ে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বাড়তি চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও প্রভাব ফেলতে পারে।

কফিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকলেও অতিরিক্ত চিনি ও ক্রিম যোগ করলে পানীয়টির পুষ্টিগুণের পাশাপাশি মোট ক্যালরি গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। তাই আইসড কফি পানের ক্ষেত্রে চিনি ছাড়া বা কম চিনি দিয়ে তৈরি সংস্করণ বেছে নেওয়া যেতে পারে। সিরাপ ও ক্রিমের পরিমাণ কমালেও অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ এড়ানো সহজ হয়।

৪. ফ্লেভারযুক্ত পানি

সাধারণ পানির বদলে অনেকে স্বাদযুক্ত বা ফ্লেভারযুক্ত পানি পান করেন। তবে এসব পানীয়ের সব সংস্করণ সমান নয়। কিছু পণ্যে বাড়তি চিনি, মিষ্টিকারক কিংবা কৃত্রিম স্বাদ ও গন্ধ তৈরির উপাদান থাকতে পারে। ফলে দেখতে হালকা পানীয় মনে হলেও এর মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় চিনি ও ক্যালরি গ্রহণ হতে পারে।

কোনো পানীয়তে কৃত্রিম মিষ্টিকারক বা স্বাদ তৈরির উপাদান থাকলেই সেটি শরীরের পানির চাহিদা পূরণে অকার্যকর, এমন নয়। তবে নিয়মিত ব্যবহারের আগে উপাদান ও চিনির পরিমাণ দেখে নেওয়া ভালো। সাধারণ পানি পান করাই শরীরের পানির চাহিদা পূরণের সহজ উপায়। পানিতে স্বাদ আনতে চাইলে লেবু, শসা কিংবা পছন্দের ফলের টুকরা যোগ করা যেতে পারে।

৫. মিল্কশেক

ঘন ও ক্রিমযুক্ত মিল্কশেক অনেকের পছন্দের পানীয়। তবে দুধের সঙ্গে আইসক্রিম, চিনি, মিষ্টি সিরাপ কিংবা ক্রিম যোগ করা হলে এতে ক্যালরি, চিনি ও সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। নিয়মিত বেশি ক্যালরিযুক্ত মিল্কশেক পান করলে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। খাদ্যাভ্যাসে সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ বেশি থাকলে তা রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

মাঝেমধ্যে মিল্কশেক পান করলেই যে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে, তা নয়। তবে নিয়মিত পান করার ক্ষেত্রে উপকরণ ও পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button