
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশে রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয় এসেছে ৮৫৯ কোটি ২৫ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩০ শতাংশ।
এই সময়ে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। দেশটি থেকে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১৬৪ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, যা মোট রেমিটেন্সের ১৯ দশমিক ২০ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে সৌদি আরব থেকে এসেছিল ১২৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশটি থেকে রেমিটেন্স বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের দেশভিত্তিক রেমিটেন্সের তথ্য প্রকাশ করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ডলারের রেমিটেন্স এসেছিল। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকেই এসেছিল সর্বোচ্চ ৫৮৪ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। সে হিসাবে ওই অর্থবছরে মোট রেমিটেন্সের ১৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ এসেছিল সৌদি প্রবাসীদের কাছ থেকে।
বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ের বড় উৎস হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবের অবস্থান শক্তিশালী। দেশের প্রায় দেড় কোটির বেশি মানুষ বিভিন্ন কাজে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি রয়েছেন সৌদি আরবে। পশ্চিম এশিয়ার দেশটিতে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত। ফলে দেশটি থেকে রেমিটেন্স প্রবাহও সাধারণত বেশি থাকে।
তবে গত দুই অর্থবছরে সৌদি আরবকে ছাড়িয়ে রেমিটেন্স পাঠানোর ক্ষেত্রে এগিয়ে গিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্র।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিটেন্স পাঠানোর দিক থেকে শীর্ষে ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। ওই বছর দেশটি থেকে বাংলাদেশে এসেছিল ৪৬০ কোটি ডলার। বিপরীতে সৌদি আরব থেকে এসেছিল ২৭৪ কোটি ডলার। একই বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকেও সৌদি আরবের চেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছিল ২৯৬ কোটি ডলার।
পরের অর্থবছর, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছিল যুক্তরাষ্ট্র থেকে। দেশটি থেকে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৪৭৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সৌদি আরব, যেখান থেকে এসেছিল ৪২৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। আর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছিল ৪১৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অবশ্য আবারও সৌদি আরব থেকে রেমিটেন্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে সৌদি আরবের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিটেন্স এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। দেশটি থেকে এসেছে ১২১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যুক্তরাজ্য থেকে এসেছিল ৯২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাজ্য থেকে রেমিটেন্স বেড়েছে ৩১ দশমিক ৬০ শতাংশ।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশটি থেকে এসেছে ৭৭ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৮৮ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমিরাত থেকে রেমিটেন্স কমেছে ১২ দশমিক ৬১ শতাংশ।
রেমিটেন্সের আরেক বড় উৎস মালয়েশিয়াতেও একই সময়ে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কমেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশটি থেকে এসেছে ৬৬ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৮২ কোটি ৩ লাখ ডলার। এ হিসাবে মালয়েশিয়া থেকে রেমিটেন্স কমেছে ১৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিটেন্স বেড়েছে। প্রথম প্রান্তিকে দেশটি থেকে এসেছে ৭৭ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৬২ কোটি ৭৪ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিটেন্স বেড়েছে ২৩ দশমিক ৫০ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সামগ্রিকভাবে রেমিটেন্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি থাকলেও বড় উৎসগুলোর মধ্যে সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্থ পাঠানো বেড়েছে। বিপরীতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়া থেকে রেমিটেন্স কমেছে।



