Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
প্রবাসসৌদি আরব

সৌদি আরবে আটকে রেখে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

যশোরের এক ব্যক্তিকে সৌদি আরবে নিয়ে আটকে রেখে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী হাসানুর রহমানের স্ত্রী মেহনাজ আফরোজের করা অভিযোগটি আদালতের নির্দেশে কোতোয়ালি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সিংহী গ্রামের মজিদ মুন্সির স্ত্রী আরজিনা বেগম, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আরবপুর স্টিলনগর গ্রামের আতিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী অরুনা বেগম এবং জয়পুরহাটের বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজের মালিক মেসবাউল ইসলাম।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মেহনাজ আফরোজ মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলাটি করেন। পরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশে গত বুধবার থানায় মামলাটি রুজু করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, যশোর সদর উপজেলার কিসমত এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা হাসানুর রহমানকে বৈধভাবে সৌদি আরবে পাঠানোর কথা বলে আসামিরা তাঁর পরিবারের কাছে ৭ লাখ টাকা দাবি করেন। বাদীর আপন খালার মাধ্যমে আসামি আরজিনা বেগমের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় হয়। পরে আরজিনার মাধ্যমে অন্য আসামিদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিদের কথায় রাজি হয়ে বিভিন্ন সময়ে মেসবাউল ইসলামের ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবে ৪ লাখ ৭৯ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাড়িতে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আরজিনা বেগম ও অরুনা বেগমকে আরও ২ লাখ ২১ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৩ এপ্রিল বিকেলে আরজিনা ও অরুনা হাসানুরকে তাঁর বাড়ি থেকে নিয়ে যান। পরদিন ঢাকা থেকে বিমানে তাঁকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। ৫ এপ্রিল রিয়াদ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর আতিকুর রহমান তাঁকে গ্রহণ করেন। পরে তাঁকে অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার বিবরণে আরও বলা হয়েছে, ৮ এপ্রিল হাসানুরকে রিয়াদ থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরের নাজরাই নামের একটি স্থানে একটি বন্ধ ঘরে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাঁকে আটকে রেখে পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, হাসানুরকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আসামিরা পরে আরও টাকা নেন। গত ৩০ এপ্রিল মেসবাউল ইসলামের ব্যাংক হিসাবে ৩৫ হাজার টাকা পাঠানো হয়। এরপর ৫ মে আরজিনা ও অরুনা বেগমকে আরও ৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

তবে এসব টাকা দেওয়ার পরও হাসানুরকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্ত্রী। তাঁর দাবি, একপর্যায়ে আসামিরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

মেহনাজ আফরোজের অভিযোগ, এ ঘটনায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাঁর অভিযোগ গ্রহণ করেনি। পরে তিনি প্রতিকার চেয়ে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশের পর অভিযোগটি এখন কোতোয়ালি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button