ধর্ম

প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ব্যক্তির অজু নিয়ে ইসলামের বিধান

নামাজ আদায়ের জন্য অজু করা আবশ্যক। অজুর মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা হয়। এ ছাড়া কোরআন স্পর্শ করার ক্ষেত্রেও অজুর শর্ত রয়েছে। অজুর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহ ক্ষমা করেন এবং সওয়াব দান করেন।

অজুর সময় শরীরের নির্ধারিত অঙ্গগুলো যথাযথভাবে ধোয়া জরুরি। কোনো অঙ্গের সামান্য অংশও শুকনো থেকে গেলে তা নিয়ে সতর্ক করেছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। এ বিষয়ে হাদিসে সতর্কবাণী এসেছে, অজুতে কোনো স্থান শুকনো রেখে দিলে তার জন্য শাস্তি হতে পারে।

পবিত্র কোরআনে অজুর নিয়ম বর্ণনা করে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও কনুই পর্যন্ত হাত ধুয়ে নাও, মাথা মাসেহ করো এবং টাখনু পর্যন্ত পা ধুয়ে নাও। আর যদি তোমরা অপবিত্র (জানাবাত) অবস্থায় থাক, তবে ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করো।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৬)

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, প্যারালাইসিস বা অন্য কোনো রোগের কারণে শরীরের কোনো অঙ্গ সম্পূর্ণ অবশ হয়ে গেলেও অজু ও গোসলের সময় তা ধোয়া ফরজ। অঙ্গটিতে অনুভূতি না থাকা কিংবা সেটি স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে না পারা এ বিধানের ক্ষেত্রে বাধা নয়। যতক্ষণ অঙ্গটি শরীরের অংশ হিসেবে বিদ্যমান থাকবে, ততক্ষণ তা ধোয়ার বিধান প্রযোজ্য হবে।

বিশিষ্ট ফকিহ আল্লামা খুজান্দি (রহ.)-কে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। এক ব্যক্তির পা এতটাই অবশ হয়ে গিয়েছিল যে, পা কেটে ফেললেও তিনি তা অনুভব করতেন না। এমন অবস্থায় অজুর সময় তাঁর দুই পা ধোয়া আবশ্যক কি না, জানতে চাওয়া হয়। জবাবে আল্লামা খুজান্দি (রহ.) বলেন, হ্যাঁ, পা দুটি ধোয়া আবশ্যক।

তবে পানি ব্যবহারের সুযোগ না থাকলে, পানির কাছে যাওয়া সম্ভব না হলে কিংবা পানি এনে দেওয়ার মতো কেউ না থাকলে ওই ব্যক্তি তায়াম্মুম করবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button