
সন্তানের জন্মদিন ঘিরে নানা আয়োজন করেন অনেক মা-বাবা। কেউ কেক কেটে দিনটি উদ্যাপন করেন, আবার কেউ আনুষ্ঠানিক আয়োজনের পরিবর্তে দরিদ্র মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ বা দান-সদকা করেন। তবে জন্মদিন উপলক্ষে দান-সদকা করলে ইসলামের দৃষ্টিতে সওয়াব পাওয়া যায় কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।
ইসলামে আল্লাহ তাআলার নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে সাহায্য করা এবং দান-সদকা করা প্রশংসনীয় আমল। সন্তানের জন্ম ও সুস্থভাবে বেঁচে থাকা মা-বাবার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় নিয়ামত। এ নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবে কেউ দরিদ্র, মিসকিন বা এতিমদের খাবার খাওয়ালে কিংবা সাধারণ নফল সদকা করলে তা সওয়াবের কাজ।
তবে জন্মদিনকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট দিনে দান করাকে শরিয়তের বিশেষ ইবাদত বা বিশেষ সওয়াব লাভের নির্ধারিত পদ্ধতি মনে করা যাবে না। আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে দান-সদকা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে জন্মদিনের দিনটিকেই বিশেষভাবে নির্ধারণ না করে অন্য দিনেও দান করা উত্তম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জন্মদিন পালন নিয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
পৃথিবীতে আগমনের দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে অনেকেই জন্মদিন পালন করেন। তবে জন্মদিন উদ্যাপন নিয়ে ইসলামী আলেমদের মধ্যে আপত্তি রয়েছে। তাঁদের অনেকে জন্মদিন পালনকে বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ হিসেবে বিবেচনা করেন।
এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪০৩)
জন্মদিন উদ্যাপনের আয়োজনকে কেন্দ্র করে অনেক সময় অতিরিক্ত খরচ ও অপচয়ও দেখা যায়। ইসলামে অপচয় ও অপব্যয় নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা আহার করো ও পান করো। কিন্তু অপচয় করো না।’ (সুরা আল-আরাফ, আয়াত ৩১)
সন্তানের জন্ম উপলক্ষে দান-সদকা
সন্তানের জন্ম ও সুস্থতা আল্লাহর নিয়ামত। এ জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে দরিদ্র, অসহায় ও এতিমদের খাবার দেওয়া কিংবা সাধারণ নফল সদকা করা যেতে পারে। ইসলামে এ ধরনের দান-সদকা প্রশংসনীয় কাজ হিসেবে বিবেচিত।
তবে দান-সদকাকে জন্মদিনের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে যুক্ত করা বা ওই দিন দান করলেই বিশেষ ধর্মীয় ফজিলত রয়েছে, এমন বিশ্বাস পোষণ করার ভিত্তি থাকা প্রয়োজন। সাধারণ নফল সদকা হিসেবে দান করলে তা সওয়াবের কাজ। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ই হওয়া উচিত এ কাজের মূল উদ্দেশ্য।
অতএব, সন্তানের জন্মদিন উপলক্ষে দরিদ্র মানুষকে খাবার দেওয়া বা দান-সদকা করার ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো নিয়ত ও কাজটির শরিয়তসম্মত হওয়া। জন্মদিনকে বিশেষ ধর্মীয় ইবাদতের দিন মনে না করে আল্লাহর নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে দান করা যেতে পারে।



