জাতীয়

বারিধারায় গাড়িচাপার ঘটনায় সেই কিশোরের জামিন নামঞ্জুর

বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত ১৭ বছর বয়সী কিশোরের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত।

রোববার ঢাকার শিশু আদালত-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির সড়ক পরিবহন আইনের মামলায় কিশোরটির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। আদালতের এক কর্মচারী এ তথ্য জানিয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, মামলার বাদী মোক্তাদীর ইসলাম ও অভিযুক্ত কিশোরের বড় ভাই আয়াজ আলী শরীফের সই করা কোনো আপসনামা বা সমঝোতাপত্র রোববার আদালতে জমা দেওয়া হয়নি।

এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর কিশোরের আইনজীবী আলমগীর হোসেন জানিয়েছিলেন, ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে। ওই দিন তিনি বলেছিলেন, জামিন শুনানির সময় আদালতে আপসনামা জমা দেওয়া হবে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর গুলশান থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরেফিন ইসলাম কিশোরকে আদালতে হাজির করে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঘটনার সময় ঘটনাস্থল থেকে কিশোরকে আটক করা হলেও মূল মামলার এজাহারে তাঁর নাম ছিল না। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নিহত মেহেদী হাসান মীমের বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলামের করা মামলায় ৪৪ বছর বয়সী আকাশ মারককে গাড়িচালক হিসেবে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, আকাশ বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে ২৪ বছর বয়সী মেহেদীকে চাপা দেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আকাশ মারক আত্মগোপনে ছিলেন।

ঘটনাটি ঘটে গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে। বারিধারার ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে থাকা অবস্থায় দ্রুতগতির একটি গাড়ি মেহেদীকে চাপা দেয়। গাড়িটি পরে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, স্থানীয় লোকজন গাড়ির নিচ থেকে মেহেদীকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মেহেদীর বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনাদাড়া গ্রামে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত কিশোর গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ও-লেভেলের শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পর কিশোরটি গাড়ির ডান পাশ দিয়ে বেরিয়ে আসছে। ওই পাশে গাড়িটির চালকের আসন। একই সময় শার্ট পরা এক মধ্যবয়সী ব্যক্তিকে যাত্রীর আসন থেকে বের হতে দেখা যায়।

পরে লোকজন জড়ো হলে দুজনই গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে কিশোরটি হেঁটে সেখান থেকে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন পরে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

পরে করা একটি আপসনামায় বলা হয়, দুর্ঘটনার সময় আকাশ মারক গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং কিশোরটি গাড়ির ভেতরে ছিল। ওই নথিতে বলা হয়, কিশোরের পরিবার নিহতের দাফন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য ১ লাখ টাকা এবং তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যৎ প্রয়োজন মেটাতে আরও ৮ লাখ টাকা দিয়েছে।

আইনজীবী আলমগীরও জানিয়েছিলেন, নিহতের পরিবারের আত্মীয়স্বজন ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে কিশোরের পরিবারের কাছ থেকে মোট ৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে এবং পরে আপসনামা করা হয়েছে।

তবে পুলিশের আদালতে দেওয়া ফরওয়ার্ডিং প্রতিবেদনে এ বিষয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছেন। সেখানে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার পর কিশোরটি গাড়ির ডান পাশের চালকের দরজা খুলে বের হয়ে আসে।

পুলিশের প্রতিবেদনে কিশোরকে ‘আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং এতে দুর্ঘটনার সঙ্গে কিশোরটির সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত মিলেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button