অন্য খবর

হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে যে ৭ অভ্যাস গড়ে তুলবেন

গ্যাস, অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালাপোড়া, বমি বমি ভাব কিংবা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা অনেকেরই মাঝেমধ্যে দেখা দেয়। এর সঙ্গে বদহজম, পেট ফাঁপা বা পেটব্যথার মতো অস্বস্তিও হতে পারে। এসব সমস্যা সাধারণ মনে করে অনেকেই তেমন গুরুত্ব দেন না।

তবে একই ধরনের সমস্যা বারবার হলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে হজমের সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, এসব উপসর্গের পেছনে কখনো কখনো অন্য কোনো শারীরিক সমস্যাও থাকতে পারে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম হেলথলাইনের এক প্রতিবেদনে হজমশক্তি ভালো রাখতে কয়েকটি অভ্যাসের কথা বলা হয়েছে। সেগুলো হলো,

১. প্রাকৃতিক ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবার খান

খাদ্যাভ্যাস অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ওপর প্রভাব ফেলে। মাইক্রোবায়োম হলো পাচনতন্ত্রে থাকা বিভিন্ন অণুজীবের একটি বাস্তুতন্ত্র। হজম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে এর ভূমিকা রয়েছে।

মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য নষ্ট হলে গ্যাস, পেট ফাঁপা, পেটব্যথা এবং মলত্যাগের ধরনে পরিবর্তনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তাই যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো। এসব খাবার থেকে ফাইবার, প্রিবায়োটিক, ভিটামিন ও খনিজ পাওয়া যায়। অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারে থাকা বাড়তি চিনি ও কৃত্রিম উপাদান এড়িয়ে চলা যায়।

২. পর্যাপ্ত ফাইবার খান

আঁশযুক্ত খাবার নিয়মিত খেলে মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে এবং অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

শস্য ও বিভিন্ন সবজিতে থাকা অদ্রবণীয় ফাইবার মলের পরিমাণ বাড়ায় এবং খাবারকে পাচনতন্ত্রের মধ্য দিয়ে চলাচলে সহায়তা করে। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি কমতে পারে।

অন্যদিকে ফল ও বীজজাতীয় খাবারে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার অন্ত্রে পুষ্টি শোষণে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এটি অন্ত্রের উপকারী অণুজীবের খাদ্য হিসেবে কাজ করে এবং অন্ত্রে স্বল্প-শৃঙ্খল ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরিতে ভূমিকা রাখে, যা প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

৩. খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখুন

অ্যাভোকাডো, বাদাম ও স্যামনের মতো খাবারে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি হজমের জন্য উপকারী হতে পারে। এটি গলব্লাডার থেকে পিত্ত নিঃসরণে সহায়তা করে, যা খাবার হজমে ভূমিকা রাখে।

এ ছাড়া ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে-এর মতো চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন শোষণের জন্যও স্বাস্থ্যকর চর্বি প্রয়োজন। এসব পুষ্টি উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, অন্ত্রের আস্তরণ এবং শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

স্বাভাবিক অন্ত্রের কার্যক্রমের জন্য শরীরে পর্যাপ্ত তরল থাকা জরুরি। পানি খাবার হজমে, হজমকারী এনজাইমের কার্যক্রমে এবং কোষে পুষ্টি পৌঁছাতে সহায়তা করে।

শরীরে পানির ঘাটতি হলে হজমের প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, গ্যাস ও পেটব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস করা জরুরি।

৫. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের মধ্যে ‘গাট-ব্রেইন অ্যাক্সিস’ নামে একটি দ্বিমুখী যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে। ফলে মানসিক অবস্থার প্রভাব অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপরও পড়তে পারে।

অতিরিক্ত মানসিক চাপে শরীরের স্বাভাবিক ‘ফাইট, ফ্লাইট বা ফ্রিজ’ প্রতিক্রিয়া সক্রিয় হয়। এতে হজমের গতি ও অন্ত্রে রক্তপ্রবাহে পরিবর্তন আসতে পারে।

দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের সঙ্গে পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া এবং অন্ত্রের কার্যক্রমে বিভিন্ন পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে। তাই হজমের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

৬. খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খান

খাবার হজমের প্রথম ধাপ শুরু হয় মুখেই। ভালোভাবে চিবালে খাবার ছোট টুকরায় পরিণত হয় এবং এর সঙ্গে লালা ও লালায় থাকা এনজাইম ভালোভাবে মিশে যায়।

এর ফলে পরবর্তী ধাপে হজমকারী এনজাইমগুলোর কাজ করা সহজ হয়। ভালোভাবে চিবানো খাবার পাচনতন্ত্রের মধ্য দিয়ে সহজে চলাচল করতে পারে এবং পেট ফাঁপা ও অস্বস্তির ঝুঁকিও কমাতে সহায়তা করতে পারে।

৭. শরীরের সংকেত বুঝুন

হজমের সমস্যা হলে শরীর কী সংকেত দিচ্ছে, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। সমস্যা কখন হচ্ছে, কোন খাবারের পর উপসর্গ বাড়ছে কিংবা কী ধরনের অস্বস্তি হচ্ছে, সেসব খেয়াল রাখা যেতে পারে।

হজমের সমস্যার কারণ যত দ্রুত শনাক্ত করা যায়, তত দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। তবে সব ধরনের হজমের সমস্যা খাদ্যাভ্যাস বা দৈনন্দিন অভ্যাসের কারণে হয় না।

তাই সমস্যা বারবার হলে, উপসর্গ তীব্র হলে বা নতুন কোনো জটিলতা দেখা দিলে নিজে থেকে চিকিৎসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button