
শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা, দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাস এবং শিক্ষাখাতে সরকারি অর্থায়ন কমানোর পরিকল্পনার প্রতিবাদে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করছেন ফ্রান্সের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে সড়কে নেমে প্রায় ২ হাজার স্কুলের কার্যক্রম আটকে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে অবশ্য ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ফ্রান্সে ব্যাপক অভিবাসনের সুযোগ দেওয়ার কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং মুসলিমরা দেশটি দখলের চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ফ্রান্সের পরিস্থিতি ব্যাপক ও নিয়ন্ত্রণহীন অভিবাসনের ফল। এটি কোনো স্কুল বা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয় নয়, বরং ইসলাম একসময়কার ‘গ্রেট’ দেশ ফ্রান্স দখলের চেষ্টা করছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিয়েছে ফরাসি সরকার। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকুরমু তাঁর মন্ত্রীদের শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পূরণের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অন্যতম দাবি হলো শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত অনুপস্থিত থাকা শিক্ষকদের সরিয়ে দেওয়া। পাশাপাশি সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা এবং দুপুরের খাবারের জন্য শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সময় দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
পুরোনো ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবনগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবিও রয়েছে শিক্ষার্থীদের। এ ছাড়া শিক্ষাখাতে সরকারি বাজেট কমানোর যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা বাতিল করাও আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি।



