জাতীয়

পূজার আগে ভারতে ইলিশ রপ্তানি নিয়ে অনিশ্চয়তা

শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আগামী শনিবার (১০ অক্টোবর)। এরই মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে ২২ দিনের জন্য ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। এ সময় ইলিশ মাছ পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে। তবে এখনও বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

আগের বছরগুলোতে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ ভারতে রপ্তানি করে আসছে বাংলাদেশ।

গত আগস্টে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়ে চিঠি দেয় পশ্চিমবঙ্গ মাছ আমদানিকারক সমিতি। একই সময়ে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে।

এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে চিঠি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং এ বছর ইলিশের উৎপাদন পর্যালোচনা করে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে মতামত দিতে বলা হয়।

গতকাল বুধবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, তাঁর মন্ত্রণালয় থেকে মতামত দেওয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইলিশ আহরণ ও ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ থাকলে রপ্তানির সুযোগ থাকবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার অফিসে গিয়ে বিষয়টি খোঁজ নেবেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত না পাওয়া পর্যন্ত ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া বা আবেদন নাকচ করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি শাখা সূত্র জানায়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত পাওয়ার পর রপ্তানির অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সাধারণত দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে। এরপর অনুমোদনের বিষয়টি আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে (সিসিআইই) পাঠাতে হয়। ফলে হাতে থাকা সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করে এবার দুর্গাপূজায় ভারতে ইলিশ রপ্তানি করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ত্রিপুরা ও আসামেও বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এসব এলাকার মানুষ বেশি দাম হলেও বাংলাদেশের ইলিশ কিনতে আগ্রহী। বিশেষ করে পদ্মার ইলিশের প্রতি ক্রেতাদের আলাদা আগ্রহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন মাছ ব্যবসায়ীরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের পর থেকে প্রতি বছর গড়ে ৫ হাজার টন ইলিশ বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয়েছে। তবে ২০১২ সালে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় সরকার। পরে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুধু দুর্গাপূজা উপলক্ষে নির্দিষ্ট এক মাসের জন্য ইলিশ রপ্তানিতে বিশেষ অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পুরো পরিমাণই ভারতে রপ্তানি হয়। ২০২০ সালে ১ হাজার ৮৫০ টন অনুমোদনের বিপরীতে পুরো ইলিশই রপ্তানি হয়েছিল।

২০২১ সালে ৪ হাজার ৬০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও রপ্তানি হয় ১ হাজার ২০০ টন। ২০২২ সালে ২ হাজার ৯০০ টনের অনুমোদনের বিপরীতে রপ্তানি হয় ১ হাজার ৩০০ টন। ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৯৫০ টন রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, রপ্তানি হয় ১ হাজার ৩০০ টন।

২০২৫ সালে ২ হাজার ৪২০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত রপ্তানি হয় ৫৭৭ টন। সর্বশেষ গত বছর ১ হাজার ২০০ টন রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও ভারতে গেছে মাত্র ১৫০ টন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button