প্রবাস

বিমানবন্দরে পোল্যান্ড প্রবাসীর লাগেজ চুরি করতে গিয়ে নারীর ৩ মাসের কারাদণ্ড

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক পোল্যান্ডপ্রবাসীর লাগেজ চুরির চেষ্টার অভিযোগে এক নারী প্রবাসীকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তৎপরতা এবং সিসিটিভি ফুটেজের সহায়তায় ওই নারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কে এম আবু নওশাদ।

পোস্টে তিনি জানান, ভুক্তভোগী যাত্রী পোল্যান্ডে শেফ হিসেবে কর্মরত। তিনি এয়ার অ্যারাবিয়া এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ট্রানজিট পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশে আসছিলেন। তবে বিশেষ কারণে লাগেজ চেক-ইন করার পর তিনি নির্ধারিত ফ্লাইটে উঠতে পারেননি। ফলে তাঁর লাগেজ আগের ফ্লাইটে ঢাকায় চলে আসে এবং তিনি পরবর্তী ফ্লাইটে রওনা হন।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের আল কাসিম শহরের একটি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ওই নারী চার বছর পর একই এয়ারলাইনসের বিমানে দেশে ফেরেন। ঢাকায় পৌঁছে নিজের সবুজাভ লাগেজ সংগ্রহ করার পরও বেল্টে পড়ে থাকা পোল্যান্ডপ্রবাসীর রঙিন লাগেজটি কৌশলে নিজের ট্রলিতে তুলে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে এয়ার অ্যারাবিয়া এয়ারলাইনসের প্রতিনিধি দিদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে তিনি লাগেজটি নিজের বলে দাবি করেন। তবে লাগেজের ব্র্যান্ড ও কেনার স্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে পারেননি।

পরে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ এবং লাগেজের প্রকৃত মালিকানাসংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ দেখানো হলে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন এবং ভুল হয়েছে বলে ক্ষমা চান।

ম্যাজিস্ট্রেটের পোস্টে আরও জানানো হয়, ওই লাগেজে থাকা যাত্রীর মূল্যবান স্যুভেনির, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও অন্যান্য মালামাল অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। লাগেজ ফিরে পেয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসী ‘টিম এয়ারপোর্ট’-এর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের অপরাধের ঘটনায় দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অভিযুক্ত নারীকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে পোল্যান্ডপ্রবাসী যাত্রীর কাছে তাঁর লাগেজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button