জাতীয়

সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত মজুরি বোর্ডকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মজুরি কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগেই মজুরি ঘোষণা করা সম্ভব হলে সেটি আরও ভালো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে সংশোধিত সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব তথ্য জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের অনেকে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরপরও শ্রমিকদের প্রতি যথাসম্ভব সংযত আচরণ করা হচ্ছে।

শ্রমিকদের আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রকৃত শ্রমিক আন্দোলন, রাজনৈতিক কর্মসূচি নাকি সহিংসতা—তা নতুন করে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য সরকার ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের ভিত্তিতে নতুন করে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পেতে কিছুটা সময় লাগায় বোর্ড গঠনে বিলম্ব হয়েছিল। শ্রমিকপক্ষের নাম পাওয়ার পরদিনই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়।

আরও পড়ুনঃ এখন যারা রাস্তায় তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের সম্পর্ক নাই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আগের পাঁচ বছর পরপর মজুরি বৃদ্ধির হার, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মালিকপক্ষের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নতুন মজুরি নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েছেন।

মজুরি বোর্ডকে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করে নতুন মজুরি ঘোষণা করতে বলা হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মজুরি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তার আগেই ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হলে সেটি সবচেয়ে ভালো হবে বলে মনে করেন তিনি।

সরকারের লক্ষ্য শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বিবেচনা করার পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান সচল রাখা।

চলমান সহিংসতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডের পেছনে প্রকৃত শ্রমিকদের দাবি নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি শ্রমিক আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যানবাহনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটছে।

এ ঘটনায় অতীতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন—এমন কিছু শিল্পমালিকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও সামনে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক ও প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু শক্তি দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকেও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের কোনো ন্যায্য দাবি থাকলে সরকার তা শুনতে প্রস্তুত। এ জন্য নির্ধারিত মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা রয়েছে। মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গেও সরকার আলোচনা করেছে।

তিনি শ্রমিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্দোলনের কারণে কর্মসংস্থান ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হলে শেষ পর্যন্ত শ্রমিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

মজুরি বোর্ড গঠন করে কাজ শুরু করা হয়েছে। তাই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটকের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি আটক হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাঁর কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই।

তবে আটক হয়ে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

সব মিলিয়ে শ্রমিক আন্দোলন, নতুন মজুরি নির্ধারণ এবং শিল্প খাতের স্থিতিশীলতা নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এখন শ্রমিকদের প্রত্যাশা, মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে দ্রুত ন্যায্য বেতন নির্ধারণ হবে এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে।

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button