যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হচ্ছেন আবদুল এল-সায়েদ
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। এ জয়ের মধ্য দিয়ে দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হতে যাচ্ছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিশিগানের উন্মুক্ত সিনেট আসনটি ঘিরে দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণের লড়াইয়েও আসনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান এল-সায়েদ আগে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। তবে এর আগে কখনো নির্বাচিত কোনো পদে দায়িত্ব পালন করেননি তিনি। আট বছর আগে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত হলেও এবার সিনেট নির্বাচনে জয় পেলেন তিনি।
সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা চালু, নির্বাচনে বাইরের অর্থের প্রভাব কমানো এবং ইসরায়েলের নীতির সমালোচনাকে সামনে রেখে প্রচার চালান এল-সায়েদ। তাঁর প্রচারে সমর্থন দেন কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজসহ প্রগতিশীল নেতারা।
অন্যদিকে, সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সের প্রতি সমর্থন জানায় রিপাবলিকান শিবির। তবে ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে অর্থনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন বজায় রাখা রজার্সের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে।
নির্বাচনী প্রচারে ইসরায়েল নিয়ে এল-সায়েদের সমালোচনাও বিতর্কের জন্ম দেয়। ট্রাম্প ও রিপাবলিকান নেতারা তাঁকে সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেন। তবে প্রতিবেদনে এ ধরনের সম্পর্কের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনেও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েন এল-সায়েদ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হেইলি স্টিভেন্সের সঙ্গে লড়াইয়ে প্রায় ৬ কোটি ডলারের বাইরের অর্থ ব্যয় হয়। এর মধ্যে ইসরায়েলপন্থী সংগঠন এআইপ্যাক (AIPAC) তাঁর বিরোধিতায় প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয় করে, যা কোনো একক নির্বাচনে সংগঠনটির সর্বোচ্চ বিনিয়োগ।
প্রাথমিক নির্বাচনের পর ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত সেই উদ্বেগ কাটিয়ে জয় পান এল-সায়েদ। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও ডেট্রয়েটে তাঁর পক্ষে প্রচারে অংশ নেন।
নির্বাচনে এল-সায়েদের জয়কে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর সমর্থকদের মতে, এ জয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতেও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মসূচির গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ।
এল-সায়েদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম ছিল ‘মেডিকেয়ার ফর অল’—যার মাধ্যমে সরকারি অর্থায়নে একক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।



