আন্তর্জাতিকসৌদি আরব

সৌদি আরবের কাছে ৫১ বিলিয়ন ডলার দাবি হুথিদের, কতটা সত্য খবরটি!

সূত্র হিসেবে সৌদি ভিন্নমতাবলম্বীর ভিডিওর সন্ধান

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের কাছে ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবির খবর নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে) এ দাবির খবর প্রকাশের পর এর সূত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ। তাদের অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, ৫১ বিলিয়ন ডলারের অঙ্কটি ডব্লিউএসজের প্রতিবেদন প্রকাশের ১১ দিন আগে কানাডায় বসবাসরত এক সৌদি ভিন্নমতাবলম্বীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে উঠে এসেছিল।

আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে আরব নিউজ জানায়, ডব্লিউএসজের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করা কয়েকটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছিল, ইয়েমেনে সংঘাত বন্ধের বিনিময়ে সৌদি আরবের কাছে ৫১ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছে হুথিরা। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, হুথিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত বন্ধের সম্ভাবনা যাচাই করতে সৌদি আরব যোগাযোগ করেছিল।

তবে এসব দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো সূত্রের পরিচয় বা তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ডব্লিউএসজের প্রতিবেদনে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, আলোচনার বিষয়ে অবহিত কয়েকজন ব্যক্তি।

আরব নিউজের অনুসন্ধান অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে সৌদি বংশোদ্ভূত ভিন্নমতাবলম্বী ওমর আবদুল আজিজ আল-জাহরানি একই অঙ্কের কথা বলেছিলেন। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, সানায় অবস্থানরত হুথিদের একজনের কাছে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি ৫১ বিলিয়ন ৭৫০ মিলিয়ন ৬৪৪ হাজার ১৫ রিয়ালের কথা জানান।

আল-জাহরানি ভিডিওতে আরও বলেন, হুথিরা ৫১ বিলিয়ন ডলার দাবি করছে। তবে তিনি নিজেই স্বীকার করেন, ওই ব্যক্তি সৌদি রিয়াল নাকি ডলারের কথা বলেছিলেন, তা তাঁর মনে নেই।

আরব নিউজের দাবি, ডব্লিউএসজের প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ৫১ বিলিয়ন ডলারের অঙ্কটির সঙ্গে ওই ভিডিওর অঙ্কের মিল থাকায় প্রতিবেদনের তথ্যসূত্র নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে ভিডিওটিই ডব্লিউএসজের প্রতিবেদনের মূল সূত্র—এমন চূড়ান্ত প্রমাণ তারা উপস্থাপন করেনি।

এদিকে সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবিগুলোকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, হুথিরা ইয়েমেনের সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, দেশটির জনগণকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং এমন সংঘাতে জড়িয়েছে, যা ইয়েমেন ও দেশটির মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী। লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে ইয়েমেনের একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার রয়েছে বলেও স্মরণ করিয়ে দেন।

আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডব্লিউএসজের খবর প্রকাশের আগে ও পরে হুথিদের ক্ষতিপূরণ দাবির বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আরও কিছু দাবি প্রকাশিত হয়েছিল। গত ৩ আগস্ট হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ একটি লেবানিজ সংবাদপত্রে ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবির খবর প্রকাশিত হয়। ২৬ অক্টোবর ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইসরায়েল হায়োম সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের ইরান সফর নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে এক বিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ নিয়ে যাওয়ার দাবিও করা হয়েছিল।

এ ছাড়া ২ নভেম্বর আল-জারিদা পোস্ট নামের একটি সংবাদমাধ্যম দাবি করে, সৌদি আরব হুথিদের ২০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করেছে।

অন্যদিকে, ডব্লিউএসজের প্রতিবেদনে যেসব সাংবাদিকের নাম রয়েছে, তাঁদের কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন পাঠানো হলেও প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাঁরা আরব নিউজের প্রশ্নের জবাব দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের সংঘাতে দেশটির অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত। হুথিদের ক্ষতিপূরণ দাবির ৫১ বিলিয়ন ডলারের খবরটি সত্য কি না, তা নিয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো প্রমাণ সামনে আসেনি। ফলে এ দাবির সূত্র, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button