আন্তর্জাতিক

সৌদির দিকে হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, রিয়াদে সতর্কতা জারি

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এর মধ্যে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এ ছাড়া রিয়াদ ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ছোড়া দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে জোট।

রোববার (৮ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। এর আগে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা আরেকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করা হয়।

এদিকে, ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী এবং সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। গত মাসে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন এলাকা পুনর্দখলের লক্ষ্যে ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে সরকারি বাহিনী।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানী সানার কাছাকাছি আল-শারিয়াহ গ্রামে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় ৩৩ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে হুথি-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে আট নারী ও ১৩ শিশু রয়েছে।

হুথি-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, হামলায় আরও অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছেন। তাঁর দাবি, সানার পূর্বাঞ্চলের বানি হুশাইশ জেলার ওই গ্রামে হামলায় বাড়িঘর, সড়ক, চিকিৎসাকর্মী এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলের সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তবে এসব হামলার বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলা ও হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি আলজাজিরা।

এদিকে, হুথি-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের দাবি, রোববার ইয়েমেনের সাদা প্রদেশের সীমান্তবর্তী শাদা জেলার বিভিন্ন এলাকায় কামানের গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এর আগে দাবি করেন, ২৪ ঘণ্টায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানা ও আরও সাতটি প্রদেশে ১০৫টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৬৯টিতে।

আরও পড়ুনঃ সৌদি আরবের কাছে ৫১ বিলিয়ন ডলার দাবি হুথিদের, কতটা সত্য খবরটি!

অন্যদিকে, ইয়াহিয়া সারির দাবি, হুথিরাও সৌদি আরবের আরামকোর তেল স্থাপনা, রিয়াদ বিমানবন্দর এবং সীমান্তের উভয় পাশে থাকা সৌদি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ৬ টি অভিযান পরিচালনা করেছে।

এর আগে শুক্রবার ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশের একটি বাজারে হামলায় ৩০ জন নিহত হন। হুথিরা এ হামলার জন্য সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে দায়ী করেছে। তবে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর অভিযোগ, ওই স্থানে হুথিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি গত জুলাইয়ে ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ইয়েমেনে সংঘাতে এক হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় তিন লাখ মানুষ। হুথিরা সৌদি বন্দরগুলোতে অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটে।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে আকস্মিক সামরিক অভিযানে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয় হুথিরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে অক্টোবর থেকে হুথিদের দখলে থাকা অঞ্চল পুনরুদ্ধারে অভিযান শুরু করে সরকারি বাহিনী।

সব মিলিয়ে ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের সংঘাত এবং সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button