ট্রাম্প আমাদের ক্ষতি করেছেন: মাগা শিবিরে প্রশ্ন
নির্বাচনে ভরাডুবির পর ট্রাম্পের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন, বিভক্ত ‘মাগা’ সমর্থকেরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন তাঁর ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘মাগা’ আন্দোলনের একাংশের সমর্থক। নির্বাচনে ভরাডুবির দায় নিয়ে আন্দোলনটির ভেতরেই তৈরি হয়েছে মতবিরোধ। কেউ ট্রাম্পের নেতৃত্ব নিয়ে সন্দিহান, কেউ আবার আন্দোলনকে আরও কঠোর জাতীয়তাবাদী অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার পক্ষে।
আজ রোববার (৮ নভেম্বর) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থকদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ইরান যুদ্ধ এবং ওয়াশিংটনের দুর্নীতির অভিযোগকে নির্বাচনে পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। আগে ২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ নিয়ে সরব থাকলেও এবার সেই বক্তব্য অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে।
রয়টার্সের জন্য তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান পিকমেট্রিকসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিজেদের মাগা সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের ২০ শতাংশের বেশি আন্দোলনের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক মাগা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন রাখলেও ট্রাম্পকে আর এর নেতা হিসেবে সমর্থন করছেন না। বাকি অংশ ট্রাম্পের প্রতি অনুগত থাকলেও তাঁর সমালোচনা করছেন।
নির্বাচনে পরাজয়ের পর ট্রাম্প অবশ্য আন্দোলনের মূল অবস্থান থেকে সরে আসেননি। বরং অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থানের অন্যতম পরিকল্পনাকারী স্টিফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মাগা আন্দোলনের কট্টর সমর্থকেরা।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা ও মাগা আন্দোলনের প্রভাবশালী সমর্থক স্টিভ ব্যানন বলেছেন, আন্দোলনকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। তাঁর মতে, আরও জোরালো জনতাবাদী ও জাতীয়তাবাদী কর্মসূচির দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের ফলে ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের সমর্থকদের তোলা কারচুপির অভিযোগভিত্তিক আন্দোলনও বড় ধাক্কা খেয়েছে। ওই নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির দাবি করা প্রার্থীদের অনেকেই এবারের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন।
মাগা আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়েও সমর্থকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। একাংশ মনে করছেন, আন্দোলনকে ট্রাম্পনির্ভরতা থেকে বের করে আনতে হবে। অন্যরা মনে করছেন, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, কর কমানো এবং বিদেশি যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ার মতো মূল এজেন্ডায় ফিরে যেতে হবে। তবে কেউ কেউ ইতোমধ্যে মাগা আন্দোলনের অবসান ঘটেছে বলেও মন্তব্য করছেন।
রয়টার্সের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রায় এক দশক ধরে প্রভাব বিস্তার করা মাগা আন্দোলন এখন নেতৃত্ব, জনপ্রিয়তা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।



