সিঙ্গাপুরে ধোঁয়াশায় এ বছর আর্থিক ক্ষতি ২.৩২ বিলিয়ন ডলার
১১ বছরে ধোঁয়াশায় সিঙ্গাপুরের ক্ষতি বেড়েছে ৪ শতাংশ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়াশায় ২০২৬ সালে সিঙ্গাপুরের অর্থনীতির ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৩২ বিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার। ২০১৫ সালের তুলনায় এ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ শতাংশ বেশি। দেশটিতে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ধোঁয়াশার কারণে এ ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আজ রোববার (৮ নভেম্বর) প্রকাশিত সিঙ্গাপুরের সংবাদমাধ্যম দ্য স্ট্রেইটস টাইমস এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ইউস্টন কোয়াহ এবং সিঙ্গাপুর ইউনিভার্সিটি অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের ইউজিন অর ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত হিসাব করে এ প্রাথমিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন।
তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ধোঁয়াশার কারণে সিঙ্গাপুরের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছিল ১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করলে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ২ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে ধোঁয়াশার দিন কম ছিল এবং দূষণের গড় সূচকও ছিল তুলনামূলক কম। তারপরও ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। এর পেছনে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মানুষের আয় ও পর্যটকদের ব্যয় বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য ও হিসাব পদ্ধতির পরিবর্তন ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ধোঁয়াশার কারণে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় শুধু চিকিৎসার খরচের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অসুস্থতা ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর আর্থিক মূল্যও এতে বিবেচনা করা হয়েছে। ২০২৬ সালে এ স্বাস্থ্যজনিত ক্ষতির পরিমাণ ২০১৫ সালের তুলনায় বেশি ছিল।
এ ছাড়া পর্যটন খাতে সরাসরি ক্ষতি, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রভাব, অসুস্থতার কারণে কর্মঘণ্টা ও ব্যক্তিগত সময় নষ্ট এবং দূষণ থেকে সুরক্ষায় মাস্কের মতো উপকরণের ব্যয়ও হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধোঁয়াশার কারণে কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তা নির্ধারণ করা গেলে সিঙ্গাপুর আরও কার্যকরভাবে সুরক্ষা ও অভিযোজন পরিকল্পনা নিতে পারবে। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়াসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সঙ্গে আগুন লাগানো ও বন পোড়ানো প্রতিরোধে ব্যয় ভাগাভাগির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
তারা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগ ও জরিমানার ওপর নির্ভর না করে আগুন ছাড়াই কৃষিকাজের বিকল্প পদ্ধতি সহজলভ্য করতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অর্থায়নের বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি উদ্যোগের ব্যয় ও সুফল বিশ্লেষণ জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ধোঁয়াশায় ২ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলেই সমপরিমাণ অর্থ প্রতিরোধে ব্যয় করা যৌক্তিক হবে, এমন নয়। বরং ধাপে ধাপে অর্থায়ন এবং ফলাফলের ভিত্তিতে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।



