
দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে কাজ করতে গিয়ে ঘাড়ে ব্যথা কিংবা শক্তভাব অনুভব করেন অনেকেই। এর সঙ্গে মাথাব্যথাও হতে পারে। বিশেষ করে পর্দা দেখতে মাথা নিচু করে দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে থাকলে ঘাড়ের পেশির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। সময়ের সঙ্গে এই অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে মেরুদণ্ড বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জাহির আব্বাস মার্চেন্ট দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে ঘাড়ের ওপর চাপ কমানোর কয়েকটি সহজ উপায় জানিয়েছেন।
ল্যাপটপে কাজ করলে ঘাড়ে ব্যথা হয় কেন?
ঘাড়ে ব্যথার জন্য শুধু ল্যাপটপ ব্যবহারই দায়ী নয়। কীভাবে বসে এবং কোন অবস্থানে থেকে ল্যাপটপ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় মাথা নিচু করে রাখলে ঘাড়ের পেশিকে মাথার ভার ধরে রাখতে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়।
এ কারণে পেশিতে ক্লান্তি ও শক্তভাব তৈরি হতে পারে। দেখা দিতে পারে ঘাড়ে ব্যথা এবং মাথাব্যথাও।
বিশেষজ্ঞের মতে, দীর্ঘ সময় ঘাড় একই অবস্থানে রাখার জন্য শরীর তৈরি নয়। তাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে কাজ করলে অস্বস্তি হওয়া স্বাভাবিক। যাদের আগে থেকেই ঘাড় বা মেরুদণ্ডের সমস্যা রয়েছে, তাদের এ বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
বসার ভঙ্গির দিকেও নজর দিন
দীর্ঘ সময় ভুল ভঙ্গিতে বসে কাজ করলে ঘাড়ের স্বাভাবিক বাঁকে প্রভাব পড়তে পারে। অবশ্য শুধু বসার ভঙ্গির কারণেই মেরুদণ্ডের সমস্যা হবে, এমন নয়। তবে ভুল ভঙ্গি ঘাড়ের ওপর চাপ ও অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে।
তাই ল্যাপটপে কাজের সময় শুধু পর্দার অবস্থান নয়, নিজের বসার ভঙ্গিও ঠিক রাখা জরুরি।
ওয়ার্কস্টেশনে যেসব পরিবর্তন আনবেন
ঘাড়ের ওপর চাপ কমাতে কর্মস্থলে কয়েকটি ছোট পরিবর্তন আনা যেতে পারে। যেমন,
- ল্যাপটপ বা মনিটরের পর্দা চোখের সমান উচ্চতায় রাখুন। এতে বারবার নিচের দিকে তাকাতে হবে না।
- পিঠ ভালোভাবে সমর্থন করে এমনভাবে বসুন।
- দুই হাত আরামদায়ক অবস্থানে রাখুন।
- দুই পা মেঝেতে সমানভাবে রাখুন।
- দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকবেন না।
ল্যাপটপ সরাসরি টেবিলের ওপর রেখে নিচের দিকে তাকিয়ে কাজ করার পরিবর্তে সেটি কিছুটা উঁচুতে রাখা যেতে পারে। প্রয়োজনে আলাদা কিবোর্ড ও মাউস ব্যবহার করলে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করা সম্ভব।
কতক্ষণ পরপর বিরতি নেবেন?
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ না করে প্রতি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পরপর উঠে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করা ভালো। এ সময় ঘাড় ও কাঁধও ধীরে ধীরে নড়াচড়া করা যেতে পারে।
নিয়মিত ছোট বিরতি নিলে একই ভঙ্গিতে থাকার কারণে ঘাড় ও কাঁধে তৈরি হওয়া শক্তভাব ও চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
দীর্ঘ সময় কাজ করার পর ঘাড়ে হালকা ব্যথা বা শক্তভাব দেখা দিলে বিশ্রাম নেওয়া এবং বসার ভঙ্গি ঠিক করার পর তা কমে যেতে পারে। তবে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষ করে ঘাড়ের ব্যথা হাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লে, হাতে অসাড়তা, ঝিনঝিন ভাব বা দুর্বলতা দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।



