অন্য খবর

শীত না আসতেই ঠোঁট ফাটছে? ঘরেই তৈরি করুন লিপ বাম

আবহাওয়ার পরিবর্তন, শুষ্ক বাতাস কিংবা আর্দ্রতার অভাবে শীত আসার আগেই অনেকের ঠোঁট শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়। এতে অস্বস্তির পাশাপাশি ঠোঁটে ফাটলও দেখা দিতে পারে। ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে বাজারে বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী পাওয়া গেলেও ঘরে তৈরি সহজ একটি লিপ বামও ব্যবহার করতে পারেন। বাদাম তেল, নারিকেল তেল ও মৌমাছির মোম দিয়ে তৈরি এই বাম ঠোঁট নরম রাখতে এবং আর্দ্রতা কমে যাওয়া ঠেকাতে সাহায্য করতে পারে।

তবে প্রাকৃতিক উপাদান মানেই তা সবার ত্বকের জন্য নিরাপদ, এমন নয়। তাই ঘরে লিপ বাম তৈরির সময় উপাদান নির্বাচন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি।

বাদাম ও নারিকেলের লিপ বাম কেন উপকারী হতে পারে

ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে

নারিকেল তেল শুষ্ক ত্বক নরম করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, বাদাম তেল ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক উপাদান হিসেবে কাজ করে এবং ঠোঁটকে মসৃণ রাখতে পারে। মিশ্রণে থাকা মৌমাছির মোম ঠোঁটের ওপর একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা আর্দ্রতা কমে যাওয়া ঠেকাতে সাহায্য করে।

ঠোঁট ফাটা ও শুষ্কতা কমাতে সহায়ক

ঠান্ডা আবহাওয়া, বাতাস এবং ঘরের শুষ্ক পরিবেশের কারণে ঠোঁটের আর্দ্রতা কমে যেতে পারে। নিয়মিত লিপ বাম ব্যবহার করলে ঠোঁটের ওপর একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি হয়, যা শুষ্কতার প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। এর মধ্যে থাকা তেল ঠোঁটের রুক্ষ অংশ নরম করে। আর মোম বামটিকে ঠোঁটে কিছুটা বেশি সময় ধরে রাখতে সহায়তা করে।

ঠোঁটের খসখসে ভাব কমায়

ঠোঁট শুষ্ক হয়ে গেলে তা খসখসে ও অসমান দেখাতে পারে। ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখলে এর গঠন ও চেহারা কিছুটা উন্নত হতে পারে। তবে এই লিপ বাম ঠোঁটের স্বাভাবিক রং স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করতে পারে না। ঠোঁটের কালচে ভাব বা রঞ্জকতার সমস্যাও দূর করে না।

সহজ উপাদানে ত্বকের যত্ন

ঘরে লিপ বাম তৈরি করলে এতে কী কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিজের মতো করে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় সুগন্ধি বা স্বাদযুক্ত উপাদান এড়িয়ে চলাও সম্ভব। যাঁরা সাধারণ উপাদানে তৈরি ঠোঁটের যত্নের পণ্য পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এটি একটি বিকল্প হতে পারে। তবে ঘরে তৈরি বলেই কোনো পণ্য বাজারে পাওয়া পণ্যের তুলনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশি নিরাপদ হয়ে যায় না।

ঘরে যেভাবে তৈরি করবেন বাদাম ও নারিকেলের লিপ বাম

এই লিপ বাম তৈরির জন্য প্রয়োজন হবে ১ চা-চামচ বাদাম তেল, ১ চা-চামচ নারিকেল তেল এবং ১ চা-চামচ মৌমাছির মোমের দানা। বাম রাখার জন্য নিতে হবে একটি পরিষ্কার, শুকনো ও তাপসহনশীল ছোট পাত্র।

প্রথমে একটি তাপসহনশীল বাটিতে মোমের দানা, নারিকেল তেল ও বাদাম তেল একসঙ্গে নিন। এরপর বাটিটি ফুটন্ত পানির ওপর বসিয়ে হালকা আঁচে গরম করুন। উপাদানগুলো গলে যাওয়া পর্যন্ত ধীরে ধীরে নাড়তে থাকুন। সরাসরি বেশি তাপে গরম করা এড়িয়ে চলুন।

সব উপাদান গলে গেলে মিশ্রণটি আলতো করে নাড়ুন, যাতে তেল ও মোম ভালোভাবে মিশে যায়। এরপর উষ্ণ মিশ্রণটি সাবধানে একটি পরিষ্কার, শুকনো লিপ বামের টিন বা ছোট তাপসহনশীল পাত্রে ঢেলে দিন।

মিশ্রণটি ঠান্ডা হয়ে জমাট বাঁধা পর্যন্ত পাত্রটি নাড়াচাড়া না করে স্থির জায়গায় রাখুন। পুরোপুরি ঠান্ডা হলে ঢাকনা বন্ধ করে ঠান্ডা ও শুকনো স্থানে সংরক্ষণ করুন।

তৈরি বামটি বেশি শক্ত হয়ে গেলে পরেরবার মোমের পরিমাণ সামান্য কমানো যেতে পারে। আবার বেশি নরম হলে পরবর্তীবার মোমের পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে নেওয়া যায়।

কতবার ব্যবহার করবেন

ঠোঁট শুষ্ক মনে হলেই এই বামের পাতলা একটি স্তর লাগানো যায়। বিশেষ করে মুখ ধোয়ার পর এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্যবহার করতে পারেন। বাইরে যাওয়ার আগেও লাগানো যেতে পারে। এটি ঠোঁটকে বাতাস ও শুষ্ক পরিবেশের প্রভাব থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে সাহায্য করবে।

ঠোঁট বারবার চাটা বা কামড়ানোর অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। লালা শুকিয়ে গেলে ঠোঁটের শুষ্কতা আরও বেড়ে যেতে পারে। ঠোঁটের চামড়া উঠলে তা জোরে ঘষে তুলে ফেলবেন না। এতে জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি বাড়তে পারে।

ব্যবহারের আগে যেসব সতর্কতা জরুরি

বাদাম ও নারিকেল তেল ত্বকের যত্নে বহুল ব্যবহৃত হলেও সব ধরনের ত্বকে এগুলো সমানভাবে সহনীয় নাও হতে পারে। বাদামে অ্যালার্জি থাকলে বাদাম তেল ব্যবহার করা উচিত নয়। লিপ বাম লাগানোর পর চুলকানি, লালচে ভাব, ফোলাভাব বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন।

নিয়মিত ব্যবহারের আগে ত্বকের অল্প জায়গায় সামান্য বাম লাগিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া যেতে পারে। তবে এ ধরনের পরীক্ষা করলেই যে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হবে না, তার নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না।

লিপ বাম তৈরির জন্য তেতো বাদাম তেল বা ত্বকের প্রসাধনী হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী নয়, এমন কোনো তেল ব্যবহার করবেন না। এর পরিবর্তে প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত মিষ্টি বাদাম তেল বেছে নিন।

মিশ্রণে পানি যোগ করবেন না। তৈরির সময় পরিষ্কার পাত্র ব্যবহার করুন এবং বাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভেজা বা অপরিষ্কার আঙুল পাত্রে ডোবানো থেকে বিরত থাকুন।

ঘরে তৈরি এই বামে পরীক্ষিত সংরক্ষণব্যবস্থা থাকে না। তাই একবারে অল্প পরিমাণে তৈরি করাই ভালো। বামের গন্ধ, রং বা গঠনে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা আর ব্যবহার করবেন না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button