অন্য খবর

শিশুর ফিডার কীভাবে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করবেন?

শিশুকে ফিডারে দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে বোতল, নিপল ও অন্যান্য সরঞ্জাম পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ায় অপরিষ্কার ফিডার থেকে জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ডায়রিয়া ও বমির মতো অসুস্থতা এড়াতে ফিডার নিয়ম মেনে পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জীবাণুমুক্ত করা দরকার।

শুধু পানি দিয়ে বোতল ধুয়ে নিলেই যথেষ্ট নয়। দুধের অবশিষ্টাংশ বোতল বা নিপলের ভেতরে লেগে থাকতে পারে, যেখানে জীবাণু বংশবৃদ্ধি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিবার শিশুকে খাওয়ানোর পর ফিডারের সব অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। বিশেষ করে দুই মাসের কম বয়সী শিশু, সময়ের আগে জন্ম নেওয়া শিশু এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।

শিশু বোতলে তৈরি দুধ খাওয়া শুরু করার পর এক ঘণ্টার মধ্যে তা শেষ না করলে অবশিষ্ট দুধ ফেলে দিতে হবে। আংশিক খাওয়া বোতলে নতুন করে বুকের দুধ বা কৌটার দুধ যোগ করা কিংবা ব্যবহারের পর বোতল ভালোভাবে পরিষ্কার না করে শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে রাখা ঠিক নয়। এতে জীবাণু দ্রুত বাড়তে পারে।

ফিডার জীবাণুমুক্ত করার আগে যা করবেন

শিশুকে খাওয়ানোর পর যত দ্রুত সম্ভব বোতল, নিপল, ঢাকনা এবং অন্যান্য অংশ খুলে আলাদা করুন। এরপর গরম সাবান-পানিতে সেগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। বোতলের ভেতর পরিষ্কারের জন্য আলাদা একটি পরিষ্কার বোতল ব্রাশ ব্যবহার করুন। নিপলের ভেতরের অংশ পরিষ্কারের জন্য ছোট ব্রাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্রাশগুলো শুধু শিশুর খাওয়ানোর সরঞ্জাম পরিষ্কারের কাজেই ব্যবহার করা উচিত।

পরিষ্কারের পর সব অংশ নিরাপদ প্রবাহমান পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপর উপযুক্ত পদ্ধতিতে জীবাণুমুক্ত করুন।

শিশুর ফিডারের যেসব অংশ পরিষ্কার করা যায়, সেগুলো নির্দেশনা মেনে বাসন পরিষ্কারের যন্ত্রেও ধোয়া সম্ভব। তবে বোতল, নিপল, ঢাকনা ও অন্যান্য অংশ আলাদা করে নিতে হবে। যন্ত্রে গরম পানি এবং তাপ দিয়ে শুকানোর ব্যবস্থা থাকলে তা বেশি কার্যকরভাবে জীবাণু কমাতে সাহায্য করতে পারে। এ ধরনের জীবাণুনাশক ব্যবস্থা না থাকলে আলাদাভাবে জীবাণুমুক্ত করার প্রয়োজন হতে পারে। সরঞ্জামের প্রস্তুতকারকের নির্দেশনাও মেনে চলতে হবে।

ফুটন্ত পানিতে ফিডার জীবাণুমুক্ত করার নিয়ম

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ (এনএইচএস) শিশুর দুধ খাওয়ানোর সরঞ্জাম ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত করার পরামর্শ দেয়। তবে প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে, বোতল, নিপল ও অন্যান্য অংশ ফুটন্ত পানিতে রাখার উপযোগী কি না।

জীবাণুমুক্ত করার পদ্ধতি:

১. একটি বড় পাত্রে পর্যাপ্ত পানি নিন। বোতল, নিপল, ঢাকনা ও অন্যান্য অংশ খুলে পানিতে ডুবিয়ে দিন।

২. নিশ্চিত করুন, সব সরঞ্জাম পানির নিচে সম্পূর্ণ ডুবে আছে। এরপর পানি ফুটতে শুরু করলে অন্তত ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন।

৩. সময় ঠিক রাখতে ঘড়িতে সময় ধরে রাখতে পারেন। এতে নির্ধারিত সময়ের আগে চুলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে।

৪. ফুটানো শেষ হলে পরিষ্কার চিমটা ব্যবহার করে সরঞ্জামগুলো তুলুন। গরম পাত্র ও পানি ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকুন এবং শিশুকে চুলা বা গরম পানির কাছাকাছি যেতে দেবেন না।

৫. জীবাণুমুক্ত সরঞ্জাম ব্যবহারের আগপর্যন্ত পরিষ্কার পাত্রে বা জীবাণুমুক্ত করার পাত্রেই ঢেকে রাখুন। হাত দিয়ে ধরার আগে সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন।

তবে বারবার ফুটালে বিশেষ করে নিপল দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বোতল ও নিপলে ফাটল, ছেঁড়া অংশ বা অন্য কোনো ক্ষতি আছে কি না, নিয়মিত পরীক্ষা করুন। ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেগুলো বদলে ফেলুন। ফুটন্ত পানি ব্যবহার করা সম্ভব না হলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী বাষ্পের সাহায্যে জীবাণুমুক্ত করার যন্ত্রও ব্যবহার করা যায়।

জীবাণুমুক্ত করার পর কী খেয়াল রাখবেন?

পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার পর সরঞ্জামগুলো সম্পূর্ণ শুকাতে দিন। পরিষ্কার, অব্যবহৃত কাগজের তোয়ালে বা কাপড়ের ওপর রেখে ধুলাবালি থেকে সুরক্ষিত স্থানে বাতাসে শুকানো যেতে পারে। তোয়ালে দিয়ে ঘষে শুকালে আবার জীবাণু লেগে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার হাতে বোতলের অংশগুলো জোড়া লাগিয়ে পরিষ্কার ও ঢাকনাযুক্ত স্থানে রাখুন।

শিশুর ফিডার পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার নিয়মিত অভ্যাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ছোট শিশু, সময়ের আগে জন্ম নেওয়া শিশু এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম এমন শিশুর ক্ষেত্রে এ বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। নিয়মিত পরিষ্কার করার পাশাপাশি দুধের অবশিষ্টাংশ ফেলে দেওয়া, সরঞ্জাম ভালোভাবে শুকানো এবং নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button