অন্য খবর

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কোন ফলগুলো খাবেন?

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকা মানেই সব ধরনের রোগ থেকে মুক্ত থাকা নয়। তবে হজমপ্রক্রিয়া ও সার্বিক সুস্থতার জন্য অন্ত্রের যত্ন নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে আঁশসমৃদ্ধ খাবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য সহায়ক হতে পারে।

অন্ত্রে থাকা বিভিন্ন ধরনের অণুজীবের সমষ্টিকে বলা হয় অন্ত্রের অণুজীবসমষ্টি বা গাট মাইক্রোবায়োম। এই অণুজীবগুলোর ভারসাম্য বজায় রাখতে খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ফল অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে এবং নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন তিনটি ফল।

কাঁচা কলা

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কাঁচা কলা উপকারী হতে পারে। এতে রয়েছে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ, যা সাধারণ শ্বেতসারের মতো ক্ষুদ্রান্ত্রে পুরোপুরি হজম হয় না। এটি বৃহদন্ত্রে পৌঁছে সেখানকার উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করতে পারে।

অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া এই শ্বেতসার ভেঙে বিভিন্ন উপকারী পদার্থ তৈরি করে। ফলে অন্ত্রের অণুজীবসমষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে এটি ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সুষম খাদ্যতালিকায় কাঁচা কলা রাখা যেতে পারে।

আপেল

অন্ত্রের যত্নে আপেলও উপকারী একটি ফল। এতে পেকটিন নামের এক ধরনের দ্রবণীয় খাদ্যআঁশ রয়েছে। এই আঁশ অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করতে পারে এবং মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করতে পারে।

আপেল কাঁচা খাওয়া যায়, আবার সেদ্ধ করেও খেতে পারেন। রান্না করলে আপেলের গঠন নরম হয় এবং খাওয়া সহজ হতে পারে। তবে আপেল সেদ্ধ করলেই পেকটিন বিশেষভাবে সক্রিয় হয়ে যায়, এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। আপেল কীভাবে খাওয়া হচ্ছে, তার পাশাপাশি সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যাভোকাডো

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অ্যাভোকাডোও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। একটি মাঝারি আকারের অ্যাভোকাডোর অর্ধেক অংশে প্রায় ৫ গ্রাম খাদ্যআঁশ থাকতে পারে, যদিও ফলের আকার অনুযায়ী এর পরিমাণ কমবেশি হয়।

খাদ্যআঁশ মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি আঁশসমৃদ্ধ খাবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পানসহ সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতেও সহায়তা মিলতে পারে।

তবে অ্যাভোকাডো খেলেই পেট ফাঁপা কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কারও কারও ক্ষেত্রে খাবারের ধরন ও পরিমাণ অনুযায়ী পেট ফাঁপা বাড়তেও পারে।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধু একটি বা দুটি ফল খাওয়ার ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি, ডাল ও পূর্ণশস্য রাখা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পানি পান করার অভ্যাসও বজায় রাখতে হবে।

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button