প্রবাসে কাজের প্রলোভনে শ্রমিক শোষণ
বেতন না দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ বাংলাদেশি সাপ্লাইয়ারদের বিরুদ্ধে

প্রবাসে ভালো কাজ, নিয়মিত কর্মসংস্থান, আইনি জটিলতা নিরসন এবং আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় ও কর্মহীন বাংলাদেশি শ্রমিকদের টার্গেট করার অভিযোগ উঠেছে কিছু বাংলাদেশি সাপ্লাই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদিআরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কাজের আশ্বাস দিয়ে শ্রমিকদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হলেও মাসজুড়ে পরিশ্রমের পর মিলছে না প্রতিশ্রুত বেতন-ভাতা। উল্টো প্রাপ্য পারিশ্রমিক চাইতে গেলে দুর্ব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এমনকি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন শ্রমিক। বিদেশের মাটিতে নিজ দেশের মানুষের কাছ থেকেই এমন আচরণের শিকার হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে।
প্রবাসে কর্মহীন ও আর্থিক সংকটে থাকা বাংলাদেশি শ্রমিকদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে সক্রিয় রয়েছে একটি অসাধু চক্র।
অভিযোগ রয়েছে,প্রথমে ভালো চাকরি, নিয়মিত কাজ, আকর্ষণীয় বেতন এবং বিভিন্ন আইনি সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। এসব প্রতিশ্রুতিতে আশ্বস্ত হয়ে শ্রমিকরা তাদের অধীনে কাজ শুরু করেন।
কিন্তু কাজ করার পর প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবতার মিল খুঁজে পাচ্ছেন না অনেক শ্রমিক। ভুক্তভোগী শ্রমিকদের অভিযোগ, পুরো মাস কাজ করার পরও তাঁদের প্রতিশ্রুত পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে না। কেউ কেউ পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, বিদেশের মাটিতে পরিচিতজন কিংবা নিজ দেশের ব্যবসায়ীর ওপর আস্থা রেখে কাজ করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হলে অনেক শ্রমিকই সহজে প্রতিকার পান না। ভাষাগত সীমাবদ্ধতা, আইনি জটিলতা, চাকরি হারানোর ভয় এবং আর্থিক সংকট তাদের আরও অসহায় করে তোলে। ফলে অনেকেই নীরবে অন্যায় সহ্য করতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রবাসে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সহযোগিতার নামে এমন অনিয়মের অভিযোগ দেশের ভাবমূর্তির জন্যও উদ্বেগজনক। শ্রমিকদের ঘামঝরা পরিশ্রমের বিনিময়ে অর্জিত ন্যায্য পারিশ্রমিক আটকে রাখা কিংবা তাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, বকেয়া বেতন-ভাতা আদায়, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
প্রবাসে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস, শ্রমকল্যাণ উইং এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কার্যকর নজরদারি ও হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
সবশেষে প্রশ্ন থেকে যায়—দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা প্রবাসী শ্রমিকরা বিদেশের মাটিতে নিজেদের ন্যায্য পারিশ্রমিক ও নিরাপত্তা পাবেন না কেন? তাঁদের ঘামঝরা পরিশ্রমের মূল্য নিশ্চিত করতে আর কত অভিযোগ সামনে আসতে হবে?
লেখা: আল মামুন শিপন



